ভার্চুয়াল মর্গ

ফেইসবুকের ব্লকলিস্টটাকে আমি বলি – ভার্চুয়াল মর্গ। এই তালিকাভুক্ত আইডিগুলোর পেছনের মানুষগুলো জীবিত তবে এখানে মৃত হয়ে পড়ে থাকে। কেউ কোনো কথা বলে না, শব্দ করে না। নিরব নিথর হয়ে থাকে। নিজের ফেইসবুক আইডির ব্লকলিস্ট চেক করলাম। লিস্ট যে খুব বড় তা নয়, হাতে গোনা যায়। লিস্টে কোনো শত্রু নেই, নেই কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। যে বা যারা আছে সব বিভিন্ন সময়ের প্রিয় এবং প্রিয়তর মানুষ। সময়ের প্রয়োজনে এই মানুষগুলো প্রিয়তর লিস্টে ছিলো, সেই সময়ের প্রয়োজনে নামগুলো ব্লকলিস্টে। অদ্ভুত!

ব্লকলিস্টে পড়ে থাকা একেকটা নামের সাথে সাত জনমের স্মৃতি জড়ানো। Continue reading “ভার্চুয়াল মর্গ”

যত দূরে থাকো

তুমি মেসেজ দিতে দেরি করলে অথবা তুমি মেসেজ সিন করতে দেরি করলে কিংবা ফোনে ওয়েটিং পেলে যে মানুষটা হুট করে রেগে যায়, সেই মানুষটা তোমাকে ভালোবাসে। যে মানুষটা সারাক্ষণ তোমার সাথে কথা বলার জন্য ছটফট করতে থাকে, রাত জেগে থাকে। তোমাকে নিয়ে ভাবতে থাকে, স্বপ্ন দেখে। একটু আড়াল হলেই ফোন দেয় কিংবা অস্থির হয়ে যায়, সেই মানুষটাকে যদি ভুল ভাবো তাহলে তুমি তার যোগ্য হতে পারোনি। যে যাকে যখন চায়, যে মূহূর্তে চায়, যে সময়ে চায় ঠিক সেই সময়ই মানুষটাকে না পেলে রাগ হয়, অভিমান হয়। আর তখন তুমি যদি তার অভিমান কিংবা রাগটাকে গ্রহণ করতে না পারো উল্টা তার সাথে রাগারাগি করো তাহলে তুমি তাকে ভালোবাসতে পারোনি।

তোমার ফেইসবুক আইডিতে কে কি কমেন্ট করলো, কে রিয়েক্ট দিলো, Continue reading “যত দূরে থাকো”

হাজার বর্ষারাত

জুয়ারির তাসের মতো সময়ের কার্ড জীবনের সবুজ টেবিলের ওপর সম্পাদিত জোছনা তীব্র আলোয় নিরন্তর ভেঁজে চলেছে আমার স্মৃতিতে। কতো খেলা, কতো খেলোয়ার, কতো কথা ভুলে গিয়েছি। কতো মুখ হারিয়ে গেছে, কতো সন-তারিখ এক হয়ে গেছে। কতো রোদ্দুর মেঘে ঢেকেছে, তবু এখনো বাজি ধরছি। এখনো আলো আছে পৃথিবীতে এবং আমার করোটিতে। উজ্জ্বলতায় সে ভরা পূর্ণিমার, সেই আলোয় এখন আমি পেছন ফিরে দেখছি। দেখছি একতী সুদীর্ঘ পথ, দেখছি সেই পথের ওপরে উৎসবের দিকে যাত্রার জন্য একদিন বেরিয়েছিল মানুষ। এখনো তাদের কলরব শুনতে পাচ্ছি যেন বা দীর্ঘ এক বাদ্যযন্ত্রে। আমিও তাদের সঙ্গে পথ হাঁটছি। কতো প্রাপ্তি, কতো নিরাশা, Continue reading “হাজার বর্ষারাত”

জীবিত কিন্তু একপ্রকার মৃত্যুই

একটি অনাহুত মৃত্যু আমাকে দূরে নিয়ে যায়। ছোট ছোট অসংখ্যবার মরে গেছি টের পেয়ে যারা আমাকে ছেড়েছে। ভাবো তাদের কি করে বলি নক্ষত্রের দুপাশ দিয়ে রাস্তা চলে গেছে! একদিন ছিল সকল ঐশ্বর্য দুহাতে ধরে। আর আজ তবে পরিশ্রান্ত শিশুর মত ঘুমিয়ে রইলাম ভালোই। অথচ আমি অনন্ত হতেই অন্ধকার চেয়েছিলাম। সমস্ত আলোর আগে সন্তানের হাত ধরা হলো না এখনো। কিন্তু আত্যন্ত আশ্চার্জ্জনক ভাবে আমি বেঁচে আছি সেই আদমের পর থেকে। মৃত্যু আমাকে, আমার নিস্তরঙ্গ আঁধারকে উন্মচোন করেনি এখনো। আমার বেঁচে থাকা লাশের উপরে অবোধ শিশুর মত আত্মা খেলে যায় এক অদ্ভুত খেলা। প্রতি মুহূর্তে একটি নিশ্চয়তার দাবি নিয়ে। বেঁচে থাকা এবং তারপরেও বেঁচে থাকা। কত সুপ্রশন্ন আমি। Continue reading “জীবিত কিন্তু একপ্রকার মৃত্যুই”

অপারেশন কিলোবাইট

সমাজের উচ্চবিত্তের প্রতি মধ্যবিত্তের কখনো শ্রদ্ধাবোধ কাজ করে না। যা করে কিছুটা ভয়, বাকিটা জেলাসি। এবং জেলাসি দুর্দান্তভাবে জিগাংসমূলক। এই আত্মহমিক মানুসিক স্ট্যান্ডার্ডাবিলিটির কারনে সামাজিক ভেদাভেদ, পারস্পরিক মূল্যবোধ, একে অন্যের প্রতি আত্মজিঘাংসা বেড়েই চলেছে। সামাজিক অবস্থান নির্ণয়নে উচ্চবিত্তের অগ্রাধিকার। মধ্যবিত্তের আকাঙ্ক্ষা বা আশা থাকলেও মূলত প্রতিফলন ঘটানোর সাধ এবং সাধ্য নেই। যেমন, আমারও ওয়েস্টিনে প্রতিদিন আড্ডা দিতে ইচ্ছে করে, প্রাডো গাড়িতে চলাচল করতে ইচ্ছে করে। কিন্তু সাধ্য নেই। তাই আল সালাদিয়া হোটেলেই খাই, লেগুনাতেই যাই। এই আর্থিক বৈষম্যভেদ্য – মূলত এই শ্রেণি সংগ্রামকে যুদ্ধের ময়দানে একে অন্যের প্রতিপক্ষ করে বানিয়ে তুলছে। গ্লোবালাইজেশন তত্ত্ব অনুযায়ি – উচ্চবিত্ত ধীরে ধীরে আরও অধিকতর উচ্চবিত্ত হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মধ্যবিত্তের দৃষ্যত পরিবর্তন নেই। Continue reading “অপারেশন কিলোবাইট”

জন্ম, মৃত্যু ও বিয়ে

জন্ম, মৃত্যু ও বিয়ে – এ তিন আল্লাহর হাত দিয়ে। খুব প্রচলিত ও পরিচিত বাংলা প্রবাদ এটি। এ প্রবাদের জন্ম কিভাবে হয়েছে, তা বের করার জন্য কিছুটা চেষ্টা করেছি, পাইনি। যারা এই প্রবাদে বিশ্বাস করে বা করেন তারা কিছুটা ফাঁকিবাজ। শুধুমাত্র বাস্তবতা থেকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া কিংবা প্রবাদের ঘাড়ে পা রেখে পালিয়ে যাওয়ার মন্ত্র এটি। যে সকল আহাম্মক এই প্রবাদে বিশ্বাস করেন, তাদের প্রতি জিজ্ঞাসা,
– আপনাদের জীবনের বাকি ঘটনা কি আল্লাহ ভিন্ন অন্যের হাতে?

এখানে অনেকেই ডিপ্লোম্যাটিকভাবে যুক্তি উপস্থাপন করবেন। Continue reading “জন্ম, মৃত্যু ও বিয়ে”

Page 1 of 4912345...102030...Last »