কথার আমি, কথার তুমি

কথার এ পিঠ ও পিঠ যেমন ধরন পাল্টে দেয়, তেমনি ভাষার ছন্দের হয়তো জীবনের ধরনটা খুঁজে পেতে অনেকেই পারেনা। জীবনের ধরনও ঠিক সবার কাছে একই ভাবে ধরা দেয় না। রং দেখতে যদি ও লাল হয় সবার দৃষ্টিভঙ্গি এক কখনোই হবে না। কারো কাছে চমৎকার, আবার কারো কাছে ক্ষেত – বিশ্রী। অথচ তার প্রাধান্যগুলো কেউ কি অস্বিকার করতে পারবে? পারবেনা। যেখানে যার প্রয়োজন সেখানে তাকে মেনে নিয়ই চলতে হবে। তবে আমাদের সমস্যা সেখানে না, আমাদের সমস্যা হলো নিজে যেটা পছন্দ করি সেটা খুব বেশি প্রধান্য দিয়ে ফেলি। আর সব থেকে বাজে স্বভাব হলো যেটা ভালো লাগবেনা তাকে নিয়ে খুব দ্রুত বাজে মন্তব্য করে ফেলি।

যার ফলে আপনার পাশে থাকা দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন যদি হয় তাকেও কোন না ভাবে আপনি Continue reading “কথার আমি, কথার তুমি”

প্রজন্মের জন্য অবশ্য দ্রষ্টব্য

এডজাস্টমেন্ট আর কম্প্রোমাইজ বহু ব্যবহৃত দুটো শব্দ। মানব সম্পর্কের সাস্টেইনিবিলিটি আর ডেভেলপমেন্ট এর সাথে এই শব্দ দুটো ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সমস্যা হল আমরা বেশীরভাগ মানুষ এই শব্দদুটোর সঠিক প্রয়োগ এবং ব্যবহার জানি না এবং দুটোকে প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহার করি। অথচ এদের শাব্দিক অর্থ পুরাপুরি আলাদা এবং বিপরীত। এডজাস্টমেন্ট মানে হল ছোট ছোট চেঞ্জ এর সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়া বা খাপ খাওয়ানো। ধরেন আপনি এবং সে একসাথে বাইরে খেতে যাবার প্ল্যান করলেন। আপনার চাইনিজ খেতে ইচ্ছা হল কিন্তু প্রেমিক/প্রেমিকা/স্বামী/স্ত্রীর ইচ্ছা ইন্ডিয়ান খাবার খাওয়ার। আপনি তার পছন্দকে সম্মান জানিয়ে ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে গেলেন। অথবা, কোন পার্টিতে যাবার সময় আপনি ভাবলেন সালোয়ার কামিজ পরবেন কিন্তু আপনার স্বামী/প্রেমিক অনুরোধ করলেন শাড়ি পরতে। আপনি ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও সেদিনের মত তার পছন্দকে প্রাধান্য দিলেন, অথবা স্বামী স্ত্রী মিলে ঠিক করে নিলেন মশারী তিনদিন সে টানাবে, চারদিন আপনি। সেটা হল এডজাস্টমেন্ট। Continue reading “প্রজন্মের জন্য অবশ্য দ্রষ্টব্য”

কেউ সুখি নয়

কখনো কি ভাবা হয় তুমি ঠিক তোমার নিজের কতোটুকু? তুমি নিজের জন্য ঠিক কতোখানি বাচোঁ? তুমি যখন সন্তান তখন তুমি তোমার বাবা-মায়ের, পরিবারের। তাদের আদেশ- নিষেধ এর নিয়মের পালনকারী। ভালো রেজাল্ট, ভালো হয়ে থাকার প্রচেষ্টা সব বাবা-মায়ের মান সম্মানের খাতিরে। শিক্ষা তোমার নিজেরই কিন্তু তবুও তোমার ইচ্ছের না কারন হয়তো তুমি। আকাশ ছোয়ার দুর্নিবার ইচ্ছায় হতে চাও তুমি পাইলট। কিংবা সমুদ্র জয়ের নেশায় হতে চাও ডুবুরি। কিন্তু তারা চায় তুমি হও ডাক্তার বা হও বড় কোন অফিসার। তুমি চাও নিজ পায়ে দাঁড়াতে আর তারা চায় তুমি সংসারী হও। যখন তুমি এই ধাপ পেরিয়ে একটু স্বাধীনতার দিকে পা বাড়াও ঠিক তখনি সেখানে স্বাধীনতার চেয়েও দায়িত্বশীলতার ভার চলে আসে বেশি। তখন জীবন তোমার চেয়েও অন্যদের জন্য হয়ে যায় বেশি। Continue reading “কেউ সুখি নয়”

হারায়ে খুঁজি

জীবনটা এমনই, কিছু মানুষ নিজের মতো কিছু করতে চায়। কিন্তু অন্যে তার পিছে বাশ দেয়। কিছু মানুষ থাকে যারা বাঁশ দেওয়া মাত্র নিজেও রকেট খায়। কিছু মানুষ অন্যকে বাঁশ, রকেট, এ্যাটমবোমা মারলেও তাদের কিছু হয় না কারণ তাদের কেউ ধরতে ছুতে পারে না। আর কিছু মানুষ নিজেরাও কিছু করে না অন্যেরা তাদের কিছু করে না। তবে গণধোলাই থেকে কিছুতেই বাইরে থাকতে পারে না। লাস্টের টাইপ হচ্ছে সবচেয়ে হতভাগা।

আমাকে কারো মনে রাখার কোন দরকারই নেই। আমি হারিয়ে যেতে চাই। Continue reading “হারায়ে খুঁজি”

প্রতারকের মহাযজ্ঞ

একটা সময় ছিল, যখন কারো উপকার করলে সে সারাজীবন ব্যাপারটি মনে রাখত। নানান ভাবে উপকারী মানুষটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করত, ঋণ শোধ করার চেষ্টা করত। যত যাই হোক না কেন, বিপদের দিনে যে মানুষটি উপকার করেছিল তার কথা কেউ ভুলে যেত না। কিংবা পাল্টা উপকার করতে না পারলেও নিদেনপক্ষে তার ক্ষতি করার চেষ্টা করত না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। এখন কারো উপকার করলে উপকারী ব্যক্তিকে সকলে আহাম্মক ধরে নেয়। বিশেষ করে যে মানুষটির উপকার করা হলো তিনি ধরে নেন যে উপকারী ব্যক্তিটি খুবই বোকা।

কেননা বোকা না হলে অন্যকে সাহায্য করবে কেন। শুধু তাই না, একবার উপকার পাবার পর নানান ভাবে চলতে থাকে উপকারী ব্যক্তিকে প্রতারণা করা, ঠকানো। Continue reading “প্রতারকের মহাযজ্ঞ”

প্রেমহীন রাজপথে

ভাঙ্গা হৃদয় নিয়ে নতুন করে আবার কেন মনের দেয়ালে রক্তাক্ত ক্যানভাস আঁকছো? এঁকো না, কোনো চিহ্ন রেখো না আর। নিভিয়ে দাও, নিভিয়ে দাও আবেগী ঐ প্রদীপ। শুকিয়ে যেতে দাও সব অনুভুতি। শুনেছিলাম আবেগের অপমৃত্যু হলে নাকি অনুভুতিরাও অবশ হয়ে পরে। সত্যিই কি তাই! বার বার গুলিয়ে ফেলছি নিজ স্বত্তাকে নীল-কালো আলোর ভীড়ে। চাই না আমি! চাইনা অর্ধ ছেড়া পাতার সাদা কালো মুহুর্তগুলোকে নীল-কালোর ছোয়ায় লালচে করে দিতে। পথে সন্ধ্যা নেমে গিয়েছিল, জোনাকির মত পিঠে এক চিমটি আলো এনে দিয়েছিল অনুভূতির টুনটুনি। প্রহর কে খর্ব করে পা ফেলছিলাম। কে জানতো। সেই টুনটুনি প্রলয়নাচন শুরু করে দিবে, সবার অলক্ষ্যে। হৃদয়ের অন্তরালে।

হঠাৎ হঠাৎ পুরনো গানের কিছু লাইন কর্ণভেদ করে প্রবেশ আমার কর্ন কুহরে – Continue reading “প্রেমহীন রাজপথে”

Page 5 of 51« First...34567...102030...Last »