আসলান (শেষ পর্ব)

আদালতে তোলা হলো তিন অপরাধীকে। ইতিমধ্যে কয়েকবার বয়ান পাল্টানোর চেষ্টা করেছে তারা, একেক সময় একেক রকম মনগড়া গল্প ফেঁদেছে। পুরো প্রদেশের একজন উকিলও তাদের পক্ষে দাঁড়াননি, যিনি ওদের হয়ে মামলা লড়েছিলেন তিনিও এই অপরাধীদের আত্নীয় বলেই মামলাটা নিয়েছিলেন। তুরস্কে মৃত্যুদণ্ডের প্রথা নেই, সেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। কিন্ত এই অমানুষগুলোকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার জন্যে ইস্তাম্বুলের রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভ করেছেন নারীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় হ্যাশট্যাগ দিয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন মানুষ। তাতে অবশ্য আইন পুরোপুরি বদলায়নি, তবে ধর্ষণ বা খুনের আসামীরা ভালো ব্যবহারের জন্যে সাজা মওকুফের তালিকা থেকে বাদ থাকবেন, এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। শেষমেশ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজাই পেয়েছিল তিন অপরাধী। তবে স্রষ্টা মানুষের অপরাধের বিচারের খানিকটা দুনিয়াতেই করে ফেলেন কখনও কখনও। Continue reading “আসলান (শেষ পর্ব)”

মৃত্যু যন্ত্রনা

কোন রোগি যখন কোমাতে চলে যায়, তখন ধরেই নেয়া হয় সে আর বাঁচবে না। তার আত্মীয়স্বজন তবুও হাল ছাড়ে না। আইসিইউতে একেকটা দিন যায়, লাখটাকা বিল উঠতে থাকে, তবুও স্বজনরা আশায় বুক বেঁধে থাকেন। যদিও সবাই জানেন- ৯৫ ভাগ ওই রোগি ফিরবে না, তবুও ৫% আশার সলতে জ্বলে তাঁদের মাঝে, ফিরতেও তো পারে। একসময় কাছের স্বজনদের ব্যাংক ব্যালান্স ফাঁকা হতে থাকে, ভিটেমাটি বিক্রি করে আইসিইউ’র বিল পরিশোধ করতে থাকে। নি:স্ব হয়ে যেতে থাকলেও তবুও স্বজনরা ওই রোগির সুস্থ হয়ে ফিরে আসার স্বপ্ন দেখেন। তাঁদের সর্বোচ্চ চেষ্টাটুকু করতে কমতি রাখেন না। কিছুটা দায়িত্ববোধ, কিছুটা সম্পর্কের টান, কিছুটা নিজের মনকে সান্ত্বনা দেয়ার জন্য এই কাজগুলো করেন। Continue reading “মৃত্যু যন্ত্রনা”

আসলান (দ্বিতীয় পর্ব)

সেদিন রাতে আসলানের বান্ধবীকে নামিয়ে দেয়ার পরে একা মেয়েটাকে পেয়েই ধর্ষণের পরিকল্পনা করে সুফি। মূল সড়ক ছেড়ে জঙ্গলের দিকে গাড়ি ঘোরায় সে। নির্জন একটা জায়গায় নিয়ে গাড়ি থামিয়ে আসলানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সে। আসলান সম্ভবত এরকম কিছুর জন্যে প্রস্তত ছিল, ব্যাগে থাকা পিপার স্প্রে’টা বের করে রেখেছিল সে। সুফী তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তেই সেটা লোকটার মুখের ওপর সরাসরি স্প্রে করেছিল আসলান। অবস্থা বেগতিক বুঝতে পেরে কোমরে গুঁজে রাখা ছুরিটা বের করে সেটা দিয়ে আসলানকে একের পর এক আঘাত করতে থাকে সুফী। রক্তাক্ত অবস্থায় আহত মেয়েটা যখন বাসের মেঝেতে পড়ে কাতরাচ্ছিল, তখন একটা লোহার রড দিয়ে বারবার তাকে আঘাত করে গেছে এই অমানুষটা, যতোক্ষণ না আসলানের দেহটা নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। Continue reading “আসলান (দ্বিতীয় পর্ব)”

আসলান (প্রথম পর্ব)

তুরস্কের একটা ঘটনা বলি আজ। ২০১৫ সালের কথা, ওজগেকান আসলান নামের উনিশ বছর বয়েসী এই তরুণী ছিল সাইকোলজির ছাত্রী। মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ে ভাবতে ভীষণ ভালো লাগতো তার। নিম্ন মধ্যবিত্ত একটা পরিবারে তার বেড়ে ওঠা, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপটা না পেলে হয়তো পড়ালেখাও চালিয়ে যেতে পারতো না সে। তার পড়ালেখার খরচ জোগানোর জন্যে তার মা একটা হোটেলে বাড়তি কাজ করা শুরু করেছিলেন। চাকুরী করে বাবা-মায়ের রক্ত পানি করা পরিশ্রমটাকে সার্থক করবে, এমনটাই হয়তো ভাবনা ছিল আসলানের। কিন্ত মানুষ ভাবে এক, আর হয় আরেক। মানুষের মনের হিজিবিজি রেখা নিয়ে ভাবতে থাকা সেই মেয়েটা হয়তো জানতো না, বিকৃতমনস্ক কয়েকজন পুরুষের লালসার শিকার হয়ে মাত্র উনিশ বছর বয়সেই তাকে পাড়ি জমাতে হবে না ফেরার দেশে! Continue reading “আসলান (প্রথম পর্ব)”

চকবাজার – শোকবাজার

প্রথমে এক পিকআপের সাথে প্রাইভেট কারের সংঘর্ষ, শোনা যাচ্ছে সেই পিকআপে ছিল সিলিন্ডার গ্যাস, সেটার বিস্ফোরণ আগে হয় অথবা হয় প্রাইভেট কারের সিএনজি বিস্ফোরণ৷ এর পাশেই ছিল হোটেল, হোটেলে রান্না হচ্ছিল গ্যাসে, সেই গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ, সাথে থাকা বৈদ্যুতিক খুটিতে ট্রান্সফর্মারে বিস্ফোরণ। সময় ৩০ সেকেন্ড! অন্য একটি স্থানীয় সূত্রে জানা যায় – যানজটে আটকে ছিল একটি পিকআপভ্যান। প্রথমে তার সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটে। আগুন ধরে যায়। আগুন ধরে পাশের একটি সিএনজি অটোরিকশায়, মোটরসাইকেলে। এরপর আগুন ছড়িয়ে পড়ে চকবাজারের নন্দকুমার দত্ত রোডের চুড়িহাট্টা এলাকার পুরো চৌরাস্তায়। একে একে বিস্ফোরিত হতে থাকে প্রতিটি গাড়ির সিলিন্ডার। পাশের দুটি রেস্টুরেন্টের গ্যাস সিলিন্ডারগুলোও বিস্ফোরিত হয়। যারা ছিলেন গাড়িতে, মোটরসাইকেলে, অটোরিক্সা, রিক্সা কিংবা অন্য কোন বাহনে অথবা বাড়ি ফিরছিলেন পায়ে হেটে, যারা ছিলেন আশে পাশের দোকানে, কেউ রক্ষা পায়নি। যানজটে আটকে পড়া মানুষগুলোর ছুটে পালানোরও কোন সুযোগ ছিলো না। Continue reading “চকবাজার – শোকবাজার”

লক্ষ্য আমার পক্ষ নেওয়া (শেষ পর্ব)

কী যেন এক রহস্যময় কারণে কল্যাণীর ফোন দিনের অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকত। ঐ বন্ধ্যাকালটা জুড়ে ওর উদ্দেশে আমি ইংরেজিতে চিঠি লিখতাম। বাড়িতে চিঠি পাঠানো ওর বারণ ছিল বলে ঐ চিঠিগুলো অপ্রেরিতই রয়ে আছে, পিনবদ্ধ অবস্থায় সেই দস্তাবেজ এখনও পড়ে আছে আমার ফাইলে। ইয়াজউদ্দিন জরুরি অবস্থা জারি করার ঠিক আগের দিন রাজশাহিতে আমাদের প্রথম চুম্বন ঘটেছিল। প্রথম চুম্বনের পর উদ্বাহু উড়ন্ত কল্যাণী আমাকে পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমপত্র পাঠিয়েছিল। উচ্চমাধ্যমিকের বাংলা দ্বিতীয় পত্রেও সে অত বড় রচনা লিখেছিল কি না, সন্দেহ আছে। চিঠির পৃষ্ঠায়-পৃষ্ঠায় ছিল অধর-রঞ্জনীর অমোচনীয় সিল। এখনও সেই বায়োমেট্রিক চিঠি আছে, চিঠিতে কল্যাণীর অধরযুগলের দাগ আছে; কেবল কল্যাণী নেই। দাগ থেকে সর্বদা দারুণ কিছু নাও হতে পারে। প্রথম চুমুর চার বছর পর কল্যাণীর উদ্দেশে কবিতায় প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলাম : Continue reading “লক্ষ্য আমার পক্ষ নেওয়া (শেষ পর্ব)”

Page 1 of 512345