আসলান (প্রথম পর্ব)

তুরস্কের একটা ঘটনা বলি আজ। ২০১৫ সালের কথা, ওজগেকান আসলান নামের উনিশ বছর বয়েসী এই তরুণী ছিল সাইকোলজির ছাত্রী। মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ে ভাবতে ভীষণ ভালো লাগতো তার। নিম্ন মধ্যবিত্ত একটা পরিবারে তার বেড়ে ওঠা, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপটা না পেলে হয়তো পড়ালেখাও চালিয়ে যেতে পারতো না সে। তার পড়ালেখার খরচ জোগানোর জন্যে তার মা একটা হোটেলে বাড়তি কাজ করা শুরু করেছিলেন। চাকুরী করে বাবা-মায়ের রক্ত পানি করা পরিশ্রমটাকে সার্থক করবে, এমনটাই হয়তো ভাবনা ছিল আসলানের। কিন্ত মানুষ ভাবে এক, আর হয় আরেক। মানুষের মনের হিজিবিজি রেখা নিয়ে ভাবতে থাকা সেই মেয়েটা হয়তো জানতো না, বিকৃতমনস্ক কয়েকজন পুরুষের লালসার শিকার হয়ে মাত্র উনিশ বছর বয়সেই তাকে পাড়ি জমাতে হবে না ফেরার দেশে! Continue reading “আসলান (প্রথম পর্ব)”

চকবাজার – শোকবাজার

প্রথমে এক পিকআপের সাথে প্রাইভেট কারের সংঘর্ষ, শোনা যাচ্ছে সেই পিকআপে ছিল সিলিন্ডার গ্যাস, সেটার বিস্ফোরণ আগে হয় অথবা হয় প্রাইভেট কারের সিএনজি বিস্ফোরণ৷ এর পাশেই ছিল হোটেল, হোটেলে রান্না হচ্ছিল গ্যাসে, সেই গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ, সাথে থাকা বৈদ্যুতিক খুটিতে ট্রান্সফর্মারে বিস্ফোরণ। সময় ৩০ সেকেন্ড! অন্য একটি স্থানীয় সূত্রে জানা যায় – যানজটে আটকে ছিল একটি পিকআপভ্যান। প্রথমে তার সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটে। আগুন ধরে যায়। আগুন ধরে পাশের একটি সিএনজি অটোরিকশায়, মোটরসাইকেলে। এরপর আগুন ছড়িয়ে পড়ে চকবাজারের নন্দকুমার দত্ত রোডের চুড়িহাট্টা এলাকার পুরো চৌরাস্তায়। একে একে বিস্ফোরিত হতে থাকে প্রতিটি গাড়ির সিলিন্ডার। পাশের দুটি রেস্টুরেন্টের গ্যাস সিলিন্ডারগুলোও বিস্ফোরিত হয়। যারা ছিলেন গাড়িতে, মোটরসাইকেলে, অটোরিক্সা, রিক্সা কিংবা অন্য কোন বাহনে অথবা বাড়ি ফিরছিলেন পায়ে হেটে, যারা ছিলেন আশে পাশের দোকানে, কেউ রক্ষা পায়নি। যানজটে আটকে পড়া মানুষগুলোর ছুটে পালানোরও কোন সুযোগ ছিলো না। Continue reading “চকবাজার – শোকবাজার”

লক্ষ্য আমার পক্ষ নেওয়া (শেষ পর্ব)

কী যেন এক রহস্যময় কারণে কল্যাণীর ফোন দিনের অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকত। ঐ বন্ধ্যাকালটা জুড়ে ওর উদ্দেশে আমি ইংরেজিতে চিঠি লিখতাম। বাড়িতে চিঠি পাঠানো ওর বারণ ছিল বলে ঐ চিঠিগুলো অপ্রেরিতই রয়ে আছে, পিনবদ্ধ অবস্থায় সেই দস্তাবেজ এখনও পড়ে আছে আমার ফাইলে। ইয়াজউদ্দিন জরুরি অবস্থা জারি করার ঠিক আগের দিন রাজশাহিতে আমাদের প্রথম চুম্বন ঘটেছিল। প্রথম চুম্বনের পর উদ্বাহু উড়ন্ত কল্যাণী আমাকে পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমপত্র পাঠিয়েছিল। উচ্চমাধ্যমিকের বাংলা দ্বিতীয় পত্রেও সে অত বড় রচনা লিখেছিল কি না, সন্দেহ আছে। চিঠির পৃষ্ঠায়-পৃষ্ঠায় ছিল অধর-রঞ্জনীর অমোচনীয় সিল। এখনও সেই বায়োমেট্রিক চিঠি আছে, চিঠিতে কল্যাণীর অধরযুগলের দাগ আছে; কেবল কল্যাণী নেই। দাগ থেকে সর্বদা দারুণ কিছু নাও হতে পারে। প্রথম চুমুর চার বছর পর কল্যাণীর উদ্দেশে কবিতায় প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলাম : Continue reading “লক্ষ্য আমার পক্ষ নেওয়া (শেষ পর্ব)”

লক্ষ্য আমার পক্ষ নেওয়া (দ্বিতীয় পর্ব)

যে জাহাঙ্গিরনগরে ভর্তিপরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে এখন থেকে দশ বছর আগে কল্যাণী দাশের সাথে আমার পরিচয় ঘটেছিল, সেই জাহাঙ্গিরনগর থেকে ফেরার পথে তারিখ ও নিজের নাম লিখে কল্যাণী আমাকে একটি শাদা টিশুপেপার দিয়েছিল; বলেছিল টিশুটি যাবজ্জীবন আমার কাছে রাখতে। আমি কথা রেখেছি, লেমিনেট করে টিশুটিকে রেখে দিয়েছি ছবির অ্যালবামে। টিশুটি এখন আর ধবধবে শাদা নেই, এক দশকের ব্যবধানে সেটি এখন ঈষৎ হলুদ রঙ ধারণ করেছে। কল্যাণীর একটি রোদচশমা আমার দখলে ছিল। চশমার কাচ দুটো ভেঙে পড়ে গিয়েছে বেশ আগেই, ফ্রেমটা রেখে দিয়েছিলাম; তস্কর ভাগনেদের অত্যাচারে সেই ফ্রেম এখন আর নেই। ওর পরিহিত কাচের একটি চুড়ি ছিল আমার কাছে, ভেঙে তিনখণ্ড হওয়া সেই খয়েরি চুড়ি এখনও আছে আমার ব্যক্তিগত আর্কাইভে। Continue reading “লক্ষ্য আমার পক্ষ নেওয়া (দ্বিতীয় পর্ব)”

‘আপনার রাশি’ বলার মানুষটা ভালো নেই (শেষ পর্ব)

তার অনেক গানের মধ্যে রুপালি গিটার গানটা বেশ বিখ্যাত হয়েছে, আইয়ুব বাচ্চুর গলায় এই গানটি কালজয়ী গানের মর্যাদা পেয়ে গেছে ইতিমধ্যে। যদিও প্রিয় শিল্পী প্রয়াত আইয়ুব বাচ্চুকে এই গানের জন্য যতটা কদর করা হয়, তার এক বিন্দুও হয়ত করা হয়নি কাওসার আহমেদ চৌধুরীকে। কারণ, আমরা জানিই না অনেকে। আমাদের দোষ আর কতটুকু! একটা গান বিখ্যাত হলে সেটার পূর্ণ কৃতিত্ব গায়কের ভাগেই যায়। এটাই হয়ে আসছে। তবে একজন গীতিকারেরও কৃতিত্ব প্রাপ্য। যাই হোক, এই গানটা যেদিন লেখা হয় সেদিন তিনি ছিলেন আইয়ুব বাচ্চুর বাসায়। সেদিন বাচ্চু অসাধারণ গিটার বাজাচ্ছিলেন। হঠাৎ আইয়ুব বাচ্চু তাকে বললেন,
– “আমি সুর তুলছি, এই সুরে কাওসার ভাই আপনি আমাকে একটি গান লিখে দিন।”
তারপর কি হলো? কাওসার আহমেদ চৌধুরী নিজেই বললেন সেই গল্প, Continue reading “‘আপনার রাশি’ বলার মানুষটা ভালো নেই (শেষ পর্ব)”

লক্ষ্য আমার পক্ষ নেওয়া (প্রথম পর্ব)

গতমাসে ধানমন্ডির সোবহানবাগে এক অভিনেতার বাসা খুঁজতে গিয়ে একটি বাড়ির নামফলকে অকস্মাৎ আমার চোখ আটকে গেল। এই চোখ যদি এখন না আটকে আট-ন বছর আগে আটকাত, চোখজোড়া তখন তৎক্ষণাৎ সরোবরে পরিণত হতো; কেঁদে-কেটে সেখানেই কপোল ভাসাতাম, নামফলকটি ছুঁয়ে-ছুঁয়ে দেখতাম, অনির্দিষ্টকালের অঘোষিত অবস্থান ধর্মঘট পালন করতাম, পরিশেষে নিরাপত্তাপ্রহরীর হুঙ্কার এড়াতে মানে-মানে কেটে পড়তাম। ‘সময় সর্বোত্তম ঔষধ’ বলে কথিত আছে, সময়ের গহ্বরে মানুষের সদ্য কৈশোরোত্তীর্ণ আবেগেরা গায়েব হয়ে যায়। বাড়িটির নামফলক দেখে সেরেফ একটি ছবি তুলে পরক্ষণেই পা বাড়িয়েছিলাম ঐ অভিনেতার বাড়ি খুঁজতে। অভিনেতার সাথে গয়রহ গালগপ্পে ছবিটির কথা ভুলেও গিয়েছিলাম, বিবিধ ভঙ্গিতে তার সাথে অজস্র ছবি তোলার কারণে ঐ নামফলকের ছবিটিও নিচে তলিয়ে গিয়েছিল। ফোল্ডারটি পুনর্বার দেখতে গিয়ে ছবিটি চোখে পড়ল, মানসপটে কিয়ৎক্ষণ চলল কতিপয় খণ্ডস্মৃতির খাণ্ডবদাহন। Continue reading “লক্ষ্য আমার পক্ষ নেওয়া (প্রথম পর্ব)”

Page 2 of 512345