‘আপনার রাশি’ বলার মানুষটা ভালো নেই (দ্বিতীয় পর্ব)

তার ধারণা এই গানগুলো তিনি লিখেছিলেন ঘোরের বশে। একটা সময় জীবনে আসে, তখন মানুষ একরকম মোহগ্রস্থতায় ডুবে থাকে। তার সেরকম কিছুই হয়েছিল বোধহয়। তিনি তখন একের পর এক হিট গান লিখেছিলেন। তার লেখা গান বাংলাদেশের প্রায় সব বিখ্যাত গায়করাই গেয়েছেন এযাবতকাল পর্যন্ত। “আমায় ডেকো না, ফেরানো যাবে না..”, “কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে রাতের নির্জনে..”, “মৌসুমী কারে ভালবাসো তুমি..”, “এই রুপালি গিটার ফেলে একদিন চলে যাব দূরে..” সহ কত বিখ্যাত গান এসেছে তার হাতে। মানুষটা এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন,
– আমি সারাটা জীবন এক স্টেশনের টিকেট কেটে অন্য স্টেশনে নেমে পড়েছি।
বাস্তবতাও তাই বলে আসলে। নাহলে এই মানুষটাকে হয়ত আমরা চিনতেই পারতাম একজন কবি হিসেবে, সেই এগারো বছর থেকেই তো কবিতা লিখে চলেছেন তিনি। চিনতে পারতাম একজন মেধাবী চিত্রনাট্যকার হিসেবে। যিনি টেলিভিশনের জন্য চিত্রনাট্য লিখেছেন, এমনকি মঞ্চ নাটকের জন্য লিখেছেন চিত্রনাট্যরুপ। মনটা বড়ই উচাটন তার, যেদিকে চোখ গেছে সেদিকেই চলে গেছেন। Continue reading “‘আপনার রাশি’ বলার মানুষটা ভালো নেই (দ্বিতীয় পর্ব)”

‘আপনার রাশি’ বলার মানুষটা ভালো নেই (প্রথম পর্ব)

আমার বাড়িতে পত্রিকা রাখা হতো না তখন। আমি যখন স্কুলে পড়তাম, সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে কোচিং করতে বের হতাম। সেখান থেকে ফিরবার পথে আমি কোনো না কোনো পত্রিকা কিনতাম। যেদিন একেবারেই টাকা থাকত না সেদিন কিনতাম বাংলাদেশ প্রতিদিন। দুই টাকা না তিন টাকা যেন ছিল তখন। এমনিতে প্রথম আলো কেনা হতো। পত্রিকায় আমি দুইটা সেগমেন্ট খুব মন দিয়ে পড়তাম আগে। পয়লা নম্বর খেলার পাতা, আর অন্যটা হলো রাশিচক্র! হ্যাঁ, রাশিচক্র খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়তাম, এমন না রাশিচক্রে আমার খুব বিশ্বাস, বরং খানিকটা অনাস্থাই আছে। তবুও পড়তাম কারণ, এই ব্যাপারটা খুব উপভোগ্য লাগত। কোনোদিন রাশিচক্রে যদি টাকা প্রাপ্তির সম্ভাবনা আছে এমন লেখা থাকত আমার অকারণেই খুশি লাগত। প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া পেতে পারেন টাইপ কথা পড়লেও কেমন কেমন মজা লাগত। Continue reading “‘আপনার রাশি’ বলার মানুষটা ভালো নেই (প্রথম পর্ব)”

সংসার ও প্রবাস কাহন (দ্বিতীয় পর্ব)

তাকে সবসময় সাহস দিয়েছি। প্রয়োজনে আমরা দেশে চলে যাব। কোন সমস্যা নেই। তুমি সুস্থ হও আগে তারপর ব্যবসায় মনযোগ দিও। আল্লাহর ইচ্ছায় দুইমাস পর সে পুরোপুরি ব্যবসায় মনযোগী হল। ধীরে ধীরে সে আবার সবকিছু ঘুচিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু এত অভাবের পরও সে আমার বাড়িতে আর তার বাড়িতে টাকা দেওয়া বন্ধ করেনি। আমার মেয়েটার বয়স এখন দুই বছর পূর্ণ হল। ও এখন কথা বলতে শিখেছে। আল্লাহর ইচ্ছায় দ্বিতীয়বারের মত মা হতে চলেছি। সে জানার পর, ঠিক প্রথম সন্তানের মতই খুশি হয়েছিল এবং সেভাবেই যত্ন করেছিল। দ্বিতীয় সন্তানও আলহামদুলিল্লাহ কন্যা সন্তান হল। তার খুশি দ্বিগুণ বেড়ে গিয়েছিল। সে সবসময় বলত কন্যা সন্তান আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত। ঠিক আমার দ্বিতীয় কন্যাটি তার জন্য রহমত হয়ে এল। দিনের পর দিন তার ব্যবসার সমস্ত লোকসান দ্বিগুন/তিন গুন লাভে ফিরে আসছিল। বেশ সুখেই দিন কেটে যাচ্ছে। ঐদিকে আমার ভাই বড়টা আগেই ভার্সিটিতে চান্স পেয়েছিল। এবার ছোটটাও একাউন্টিং এ চান্স পায়। তাদের পড়ালেখাও এগিয়ে যাচ্ছে। Continue reading “সংসার ও প্রবাস কাহন (দ্বিতীয় পর্ব)”

বাস্তবতা

– হাই কেমন আছেন?
– জ্বি সবসময় ভাল থাকি
– আপনার মনে কি খুব কষ্ট?
– নাহ্, আমি সবসময় হ্যাপি
– আপনার স্ট্যাটাসগুলা পড়ে, মনে হলো তাই জিজ্ঞাস করলাম।
– আমি বাস্তব, সাথে স্ট্যাটাসগুলাও। একসময় এই স্ট্যাটাসগুলার সাথে আমি সম্পর্কিত ছিলাম।
– ওহ্, তা কিসে পড়েন?
– ইন্টার ২য় বর্ষ।
– এতো অল্প বয়সে এতো কিছু? সবকিছু বুঝে গেছেন? আবার প্রতারিতও হইছেন?
– শুনেন ভাই কষ্ট পাওয়ার কোন বয়স নাই। কষ্ট মানুষের জীবনে যেকোনো সময় আসতে পারে।
Continue reading “বাস্তবতা”

ছলনাময়ী

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, তুমি বুঝো না কোনটা ভুল আর কোনটা প্রতারণা। সুস্থ মস্তিষ্কে কেউ কাউকে কষ্ট দেয়াটা ভুল না। ঠান্ডা মাথায় কাউকে ঠকানোটা ভুল না।একই কাজ বারবার করাটা ভুল না, সেটা ইচ্ছাকৃত।
– ‘আমি বুঝতে পারি নাই’, ‘আর কখনো এমন হবে না’ , ‘SORRY’।
এগুলো হলো প্রতারণার পর একজন প্রতারকের সবচেয়ে বেশিবার বলা বাক্য। ঘরে বউ রেখে অন্য একজনের সাথে ৩ মাস প্রেম করার পর ধরা খেয়ে এক ব্যক্তি বললোঃ
– “আমি বুঝতে পারি নাই।”
প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হয়,
– “কি বুঝতে পারো নাই তুমি? এটা কি জটিল ম্যাথ? কঠিন সাহিত্য? নাকি দুর্বোধ্য কোন বিষয়? সুস্থ মস্তিষ্কে জেনেশুনে তুমি দিনের পর দিন একটা মানুষকে ঠকিয়ে যাচ্ছো আর ধরা খাওয়ার পর বলতেছো, বুঝি নাই? ফাজলামি করো?”
প্রশ্নগুলো করা হয় না কখনো। Continue reading “ছলনাময়ী”

দুঃস্বপ্ন

বসন্তের এক বিকেলে আমি শক্ত করে মেয়েটার হাত মুঠোয় চেপে ধরি। বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে বাহু স্পর্শ করে টের পাই তার নাড়ির স্পন্দন। কপালের সামনে চলে আসা অবাধ্য চুলগুলো তিন আঙুল দিয়ে সরিয়ে মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসতে থাকে। আমি তার চোখের দিকে তাকাই। হাসলে কেন জানি তার চোখ দুটো ছোট ছোট হয়ে যায়। একটা হাওয়াই রিকশা আছে আমার। তাকে নিয়ে সেই রিকশাতে চড়ে আমি উড়তে থাকি, ভাসতে থাকি যখন তখন। মাঝে মাঝে যখন তার মন খারাপ হয়, সে গাল ফুলিয়ে বসে থাকে। আমি দুই হাত দিয়ে তার ফোলা গাল দুটো স্পর্শ করে তার চোখের দিকে তাকিয়ে তাকে বুঝাই। সে কিছুতেই তখন আমার চোখের দিকে তাকায় না। মেয়েটা ছোট বাচ্চাদের মত মাথা নিচু করে বসে থাকে। Continue reading “দুঃস্বপ্ন”

Page 3 of 512345