কাফন

কাফনের কাপড় সাদা হলেও আসলে সেটা রঙিন। তার কারন পাপ অনেক কালারফুল। লাল রঙের পাপ, নীল রঙের পাপ। তাই কাফনটা যখন একটা পাপীষ্ট শরীরে মোড়ানো হয় তখন কাফনটা আর সাদা থাকেনা। অনেক গুলো রঙ মিশে যায় অই কাপড়টায়। তবে রঙ গুলো বিষাক্ত। আমাকে দাফন করার ঠিক আগ মুহুর্তেই ঝুম বৃষ্টি। আমাকে কেন জানিনা এই বৃষ্টিতেই শুইয়ে রাখলো একটা কাঠের বাক্সের ভেতর। তবে উপরে কোনো ছাউনি নেই। বরং খোলা। অবশ্য আমি অনেক কান্নার শব্দও শুনতে পাচ্ছিলাম। যদিও বুঝতে পারছিলাম না যে আসলে কারা কারা কাঁদছিল তখন আমার জন্য। Continue reading “কাফন”

নষ্ট বাসর (শেষ পর্ব)

[সত্য ঘটনা অবলম্বনে]

এর পরের দিন থেকে শুরু হল তার অভিনয়। একজন বিবাহিতার অভিনয়। পরিবারের লোকজনের সামনে সে আমার ভালোবাসার মানুষ, আমার প্রিয়তমা স্ত্রী। আমার কোন কথায় সে হেসে আমার গায়ের উপর ঢলে পড়ে, খেতে বসলে আমার পাতে এটা ওটা ঢেলে দেয়। এসব আমার খুব ভালো লাগে তবে সেটা ঐ মুহূর্তের ভালোলাগার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু যখনি রুমে আমরা দুজন একা সে তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক মানুষ। যার সাথে আমার কোন কথা হয় না, প্রেম ভালোবাসা সেখানে পুরোপুরি অনুপস্থিত তারপরও আমি তার মন জেতার চেষ্টা করি। মজার মজার গল্প করি, বাইরে গেলে তাঁর জন্য এটা ওটা কিনে আনি। আমার মনে ক্ষীণ আশা যদি সে বদলে যায়? অনেক চেষ্টা করেও তাকে আমি বদলাতে পারিনি। আমার বাবা মা খুব কষ্ট পাবেন এ কারণে তাঁদের ও বলিনি। নিঃশব্দে অভিনয় করে গেছি। Continue reading “নষ্ট বাসর (শেষ পর্ব)”

নষ্ট বাসর (তৃতীয় পর্ব)

[সত্য ঘটনা অবলম্বনে]

তার এ কথা শুনে আমার কান ঝালাপালা করছিল। বলে কি এই মহিলা? ইনি আগে কখনো তো এভাবে কথা বলেননি? এতো লজ্জা লাগছিল কি বলব? জীবনে কখনো কোন মেয়ের সাথে এক বিছানায় শুইনি। সবকিছু কেমন জানি অদ্ভুত লাগছিল আমার কাছে আবার ভালও লাগছিল। আমাদের দুজনকে রুমে রেখে সবাই চলে গেলেন। আমি মাথার পাগড়ী খুললাম। শেরওয়ানি খুললাম। ঘরে এসি চলা স্বত্বেও আমার খুব গরম লাগছিল। আমার বন্ধুরা আমাকে বলেছিল তর স্ত্রী তোকে সালাম করবে, তোরা একসাথে এক জায়নামাজে নামাজ পড়বি। স্ত্রীকে কাবিনের টাকা সালামী হিসেবে দিবি ইত্যাদি! আমার স্ত্রী সেরকম কিছুই করল না। আমিও ব্যাপারটাকে তেমন পাত্তা দিলাম না। বিদেশে বড় হওয়া মেয়ে হয়তোবা জানে না। আমি বিছানায় গিয়ে বসলাম। ভাবছি তাঁকে কি বলব? আমার প্রথম কথাটি কি হবে? Continue reading “নষ্ট বাসর (তৃতীয় পর্ব)”

নষ্ট বাসর (দ্বিতীয় পর্ব)

[সত্য ঘটনা অবলম্বনে]

রায়ের আগের ক’টা রাত ছিল বিভীষিকাময়! কেন্দ্রীয় কারাগারের চার দেয়াল আমার কান্নার সাক্ষী। কত কেঁদেছি ভেবেছি বাকী জীবনটা হয়তোবা এখানেই কেটে যাবে। দেখা গেল আমি চরম সৌভাগ্যবানদের একজন যাকে সাপোর্ট দেবার জন্যে একজন বিত্তবান বাবা আছেন, স্নেহময়ী একজন মা আছেন। জেল থেকে ছাড়া পাবার পর আমার বাবা মা বুঝতে পারলেন তাঁদের বড় ছেলেটা পুরোপুরি উচ্ছন্নে গেছে, রাত বিরাতে বাসায় ফিরে! তাকে ভাত খেতে বললে বলে বাইরে খেয়ে এসেছি, অথচ সে বাইরে খেয়ে আসেনি। গভীর রাতে বাসার কাজের বুয়াকে খুব বেশি মিষ্টি দিয়ে চা বানিয়ে দিতে বলে। চুক চুক করে চা খায়, কানে হেড ফোন লাগিয়ে সারারাত গান শোনে কিংবা ডাইরি লেখে। ছেলেটার শোবার ঘর থেকে প্রায়ই গাঁজার গন্ধ আসে, কথা বললে মুখ থেকে ভকভক করে স্পিরিটের গন্ধ আসে। Continue reading “নষ্ট বাসর (দ্বিতীয় পর্ব)”

নষ্ট বাসর (প্রথম পর্ব)

[সত্য ঘটনা অবলম্বনে]

অতি রূপবতী , ভরা যৌবনা এক মেয়ে আমাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে। নাহ্ “মেয়ে” বলাটা ঠিক হচ্ছে না! মহিলা বলা উচিৎ! প্রচুর মেকআপ-ওলা যে ছবিটি প্রোফাইল পিকচার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে তা দেখে আমি তাকে চিনতে পারলাম না। মনের মধ্যে প্রশ্ন উঁকি দিল! সে আমার বন্ধু হতে চাচ্ছে কেন? আমি তার কে? সে কি আমার স্কুলের কোন ক্লাসমেট? ক্লাসমেট মেয়েগুলোকে ইদানীং মামি, চাচীর মতন দেখায় । আমি হতাশ চোখে তাদের দিকে তাকাই সে ঝলমলে রূপের কিছুই অবশিষ্ট নেই। আমি সে মহিলার বন্ধুত্বের ডাকে সাড়া দিলাম । ফেসবুকে কাউকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা আর নিজের বাড়ির শোবার ঘরে ঢুকতে দেওয়া একই জিনিস। আমি এ ব্যাপারে কঠিন গাইডলাইন ফলো করি। অপরিচিত কারো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করি না তারপরও কেন জানি তাঁকে করলাম। Continue reading “নষ্ট বাসর (প্রথম পর্ব)”

যুদ্ধ কন্যা

মায়ের সৃতির খোঁজে এসেছেন ঢাকায়, একাত্তরের যুদ্ধশিশু মনোয়ারা। শরীরের কয়েকটি জায়গায় পরিষ্কার দাগ এখনও ভীষণ স্পষ্ট, জন্মদাগ হিসাবেই এখন বলতে হয় তাকে।জন্মের পর তো আর তার পক্ষে এটা কীসের ক্ষত বোঝা সম্ভব হয়নি; পরে কৈশোরে জানতে পারলেন, দাগের উৎপত্তি পাকিস্তানি সেনাদের বেয়োনেটের খোঁচানি। বেয়োনেটের আঘাত নিয়েই জন্ম তার। পাকিস্তানি সেনারা ধর্ষণের পর, বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে তার মাকে। খোঁচার দাগে মায়ের গর্ভের শিশুর দেহেও কেটে গেছে। কামিজের একপাশটা তুলে দেখালেন ঘাড়ে, পিঠে, বাহুতে বড় বড় ক্ষত। মৃত পড়ে ছিল মা। অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া শিশুটিকে বিশেষ ব্যবস্থায় পৃথিবীর আলোতে নিয়ে আসেন যুদ্ধের সময় বাংলাদেশে থাকা কানাডিয়ান চিকিৎসক হালকে ফেরি। Continue reading “যুদ্ধ কন্যা”

Page 4 of 512345