নর্দান লাইটস : রাতের আকাশে আলোর মেলা

যতদুর মনে পড়ে, আমরা ছোটবেলায় অনেক তারা দেখেছি আকাশে। সেই সময় শুধুমাত্র লোডশেডিংয়ের সময়টাতে বারান্দায় যাওয়া হত। বারান্দায় গেলেই আকাশের দিকে তাকিয়ে তারা গোণা শুরু। কখনোই গুনতে পারতাম না ঠিকমত। ৭৭-৭৮ বলে গোণা শেষ করে দিতাম। সেই রাতের আকাশের সাথে এখনকার রাতের আকাশের বিরাট পার্থক্য। আগের মত এখন আর আকাশে এত এত তারা-নক্ষত্রের দেখা পাওয়া যায়না। শুধু রাতের আকাশ নয়, এখনকার সন্ধ্যার ‍আকাশেও বেশ তফাৎ খুঁজে পাই। খুব সম্ভবত ২০০১-২০০২ সালের কথা, শেষবারের মত সন্ধ্যার আকাশ টকটকে লাল হতে দেখেছিলাম। এখন আর শেষ বিকেলের আকাশটাও লালচে হয়না আগের মত। সবই বদলে গেছে। অবশ্য এই বদলে যাবার পেছনে রয়েছে অসংখ্য কারণ এবং পক্ষে-বিপক্ষে বৈজ্ঞানিক যুক্তি। মূল বিষয়ে চলে যাই… Continue reading “নর্দান লাইটস : রাতের আকাশে আলোর মেলা”

অ্যা লং হিষ্টোরি অফ অ্যা শর্ট জার্নি (চতুর্থ পর্ব)

দশ
কোলকাতা শহরে এসে বাস থেমে গেলো। এটাই শেষ ষ্টপেজ। অবশিষ্ট সব যাত্রী নেমে গেলো। কাঁধ ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে আর হাতে টানা ব্যাগ নিয়ে আমিও নেমে পরলাম। আম্মুকে নিয়ে ২০১৪ এর মে-জুন এর দিকে ইন্ডিয়া এসেছিলাম। খুব ঘুরে বেরিয়েছিলাম আম্মু আর আমি। দারুন এক জার্নি ছিলো। লাইফের চরম ডিজ্যাজষ্টারাস মোমেন্টে আম্মুকে নিয়ে ঘুরার মত স্বপ্ন পূরন হওয়াটাও অনেক বড় ব্যপার ছিলো আমার জন্য। এক দিকে স্বপ্ন ভঙ্গ অন্য দিকে স্বপ্ন পুরন – অদ্ভুত কম্বিনেশ্যান তাই না? সে যাই হোক মূল ঘটনায় ফিরে আসি। সেবার আম্মু আর আমি যে গেষ্ট হাউসে উঠেছিলাম, সেই গেষ্ট হাউস চোখের সামনে পড়ে যাওয়ায় আমি আবার স্মৃতি বিজড়িত হয়ে পরলাম। আমিও আর ডান বাম না ভেবে সোজা ঢুকে পরলাম এই ঠিকানায় –
Paradise Guest House
18, Marquis Street, Kolkata – 700 016 Continue reading “অ্যা লং হিষ্টোরি অফ অ্যা শর্ট জার্নি (চতুর্থ পর্ব)”

অ্যা লং হিষ্টোরি অফ অ্যা শর্ট জার্নি (তৃতীয় পর্ব)

সাত
আমার পালা আসতেই অফিসার আমাকে জিজ্ঞাস করলেন,
– আপনার তো মেডিক্যাল অ্যাটেন্ডেন্ট ভিসা। রোগি কোথায়?
আমি বললাম,
– আমার মা ট্রিটমেন্ট নিয়ে কোলকাতায় আছেন। এখন আমি তাকে আনতে যাচ্ছি।
সে আমাকে আমার পাসপোর্ট ফেরত দিয়ে সেই বিশেষ কামরা দেখিয়ে বলনে,
– ইমিগ্রেশান অফিসারের থেকে অনুমতি নিয়ে আমার ডেস্কে আসুন।
আমার তো অন্তর আত্না ছ্যাঁত করে উঠলো। এতো দূর এসে কি বাসায় ফেরত পাঠিয়ে দেবে? এত খরচ তার সবই জলে যাবে যদি আম্মুর ঔষধ গুলো না নিতে পারি। মায়ের মুখখানা মনের মানষপটে ভেষে উঠলো। আমি আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে অফিসারের কামরার দিকে এগিয়ে গেলাম। ছেলের সব কিছু শুনে প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে ভেরিফিকেশনের জন্য কম্পিউটারের স্ক্রিনে চোখ রাখলো। আমি এই ফাকে ছেলেকে জিজ্ঞাস করলাম,
– কি জানতে চেয়েছে আপনার কাছে? Continue reading “অ্যা লং হিষ্টোরি অফ অ্যা শর্ট জার্নি (তৃতীয় পর্ব)”

অ্যা লং হিষ্টোরি অফ অ্যা শর্ট জার্নি (দ্বিতীয় পর্ব)

চার
ভোর ৬.০০টার দিকে আমাদের গাড়ি হরিদাশপুর বর্ডারে এসে থামলো। এখন বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন পার হয়ে ইন্ডিয়ান বর্ডারে এন্ট্রি নেয়ার পালা। যারা ইমিগ্রেশন প্রসিজারের ভিতর দিয়ে গেছে তারা তো জানেন ই। কিন্তু জারা যাননি তাদের জন্য বলছি,
– “এ এক অন্য রকম পুলসিরাৎ। ভালোয় ভালোয় পার হতে পারলে তো ভালোই। তা না হলে সেই লেভেলের লাট্টু ঘুরা ঘুরাবে ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তারা।”
শ্যামলী পরিবহনের কর্মকর্তা এসে আমাদের সকলের পাসপোর্ট নিয়ে গেলো আর আমার অপেক্ষার প্রহর গোনা শুরু। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মানুষ দেখি। পাশ দিয়েই খুব রোমান্টিক মুডে একটি কাপল ইমিগ্রেশনের দিকে এগিয়ে গেলো। দেখেই বোঝা যায় সদ্য বিবাহিত। সামনে ঈদ। তারই শপিং করতে যাচ্ছে ইন্ডিয়া। বড়োজোর ৩/৫ দিন থাকবে। আরেক পাঁশে হিন্দু বয়োবৃদ্ধ কাপল দাঁড়িয়ে আছেন। Continue reading “অ্যা লং হিষ্টোরি অফ অ্যা শর্ট জার্নি (দ্বিতীয় পর্ব)”

অ্যা লং হিষ্টোরি অফ অ্যা শর্ট জার্নি (প্রথম পর্ব)

এক
ঘড়ির কাটায় ঠিক রাত ১১.১০। একদম হঠাৎ করেই দেশের বাহিরে যাচ্ছি। হাতে সময় নিয়ে যাওয়ার সময় নেই আবার অন্য দিকে ভিসার মেয়াদও নেই। তাই অগ্যতা কাজ আর ভিসা দুটাকে বাঁচাতেই যেনো আমার হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেয়া “ইন্ডিয়া” যাবো। ট্রভেল লাগেজ ও কাঁধ ব্যাগ আগে থেকে গুছানোই ছিলো। তবে শেষ সময়ে তাড়াহুরো করে বেরুতে গিয়ে ভুলে বাসায় পাসপোর্ট এবং টিকেটের মতো খুব গুরুত্বপূর্ন জিনিসই ফেলে এসেছিলাম। ভাগ্যিস বেশি দূর যাইনি। আবার বাসায় যেয়ে, পাসপোর্ট টিকেট নিয়ে দেরি না করেই শ্যামলী পরিবহনের বাস কাউন্টারে এসে দাঁড়ালাম। আমার টিকেট বলছে ঢাকা-কোলকাতার বাস আসবে ১১.৩০ মিনিটে। বাঙ্গালীর সময়জ্ঞান আগে থেকেই জানা বলে এদিক সেদিক পায়চারি করছিলাম। কিন্তু আমার ধারনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাস ১১.২০ মিনিটে কাউন্টারে এসে হাজির। আমিও আর দেরী না করে ঝট পট উঠে পরলাম। বাস অ্যাটেন্ডেন্ড আমাকে আমার সিট দেখিয়ে দিয়ে চলে গেলো। আমিও আমার সিঙ্গেল স্লিপারে বেশ আয়েশি ভঙ্গিতে আধ-শোয়া অবস্থায় রইলাম। কল্পনাপ্রবন এই আমি চলে গেলাম আজ থেকে ঠিক ১৩ বছর আগের ফেব্রুয়ারির ৫ তারিখ রাত ৯.০০টার সময় বলয়ে। Continue reading “অ্যা লং হিষ্টোরি অফ অ্যা শর্ট জার্নি (প্রথম পর্ব)”

অদ্ভুত সব জাপান কাহিনী (শেষ পর্ব)

৮। বাচ্চাদের পরীক্ষা নেই
আমাদের দেশে বাচ্চাদের কতগুলো পরীক্ষা দিতে হয় ভাবুনতো? প্রথম শ্রেণী থেকে শুরু করে সকল শ্রেণীতেই পরীক্ষা। আরো আছে বৃত্তি পরীক্ষা কিংবা পিএসসি। কিন্তু জাপানে ১০ বছর বয়স পর্যন্ত বাচ্চাদের কোনো পরীক্ষা দিতে হয় না!

৯। পত্রিকাগুলোয় শুধুই শিক্ষণীয় বিষয়
জাপানে স্বাক্ষরতার হার শতকরা ১০০ ভাগ। তাদের পত্রিকায় আমাদের দেশের মত সংবাদ দূর্ঘটনা, রাজনীতি, সিনেমার সংবাদ ইত্যাদি ছাপানো হয় না। সেখানে শুধু প্রয়োজনীয় ও আধুনিক জগৎ সম্পর্কে সংবাদ ছাপা হয়। Continue reading “অদ্ভুত সব জাপান কাহিনী (শেষ পর্ব)”

Page 1 of 612345...Last »