কথা

[ছেলে – মেয়ে কথোপকথন]
আপনি একা থাকেন?
– সবাই একাই থাকে। একসঙ্গে থাকার ভান করে মাত্র।
আপনি করেছেন?
– সবাই-ই তো করে। আমি করলে দোষ কোথায়।
আপনাকে তো চিনি না আমি!
– চিনে নিতে কতক্ষণ। জন্মের পরপরই তো সবাই অপরিচিত। ধীরে ধীরে নিজ প্রয়োজনে চিনে নেয়।

[মেয়ে – ছেলে কথোপকথন]
তোমার চোখের প্রতি ফোটা জল, পূর্ণিমাতিথিতে জোনাকীর মতো একেকটা প্রেমের অক্ষরের জন্ম দেয়।
– প্রেম! আবার প্রেম! Continue reading “কথা”

ময়ূরাক্ষী

রুপাঃ তুমি কি জানো, আমি তোমার কথা খুব ভাবি?
হিমুঃ জানি।
রুপাঃ সত্যি জানো?
হিমুঃ হুম, সত্যি।
রুপাঃ কি করে জানো?
হিমুঃ ভালোবাসা টের পাওয়া যায়।
রুপাঃ কেন জানি তোমার কথা সব সময় মনে হয়, এর নাম কি ভালোবাসা?
হিমুঃ আমার জানা নেই রুপা।
রুপাঃ তুমি কি আসবে আমাদের বাসায়?
হিমুঃ আসবো।
রুপাঃ কখন আসবে? Continue reading “ময়ূরাক্ষী”

বিষয় “আত্মজ্ঞান”

এরপর একজন পুরুষ বললো,
– আমাদেরকে আত্মজ্ঞান সম্পর্কে বলুন।
আর তিনি বললেন,
– তোমাদের হৃদয় নীরবে জানে দিন ও রাত্রির গোপন রহস্যাবলি। কিন্তু তোমাদের কান তৃষ্ণার্ত হয়ে থাকে তোমাদের অন্তরের জ্ঞানের ধ্বনির জন্য। যা তোমাদের ভাবনায় সব সময় জেনে এসেছো তা তোমরা এখন কথার মাধ্যমে জানতে চাও। তোমরা চাও তোমাদের স্বপ্নের নগ্ন দেহকে তোমাদের আঙ্গুল দিয়ে স্পর্শ করতে। আর তোমাদের এই চাওয়াটা খুবই ভালো। তোমাদের আত্মার লুকানো কুয়ার জলকে উত্থিত হয়ে কলকল করতে করতে সাগরের পানে ছুটে যেতেই হবে। এবং তখন তোমাদের অন্তহীন গভীরতার ঐশ্বর্যসমূহ তোমাদের চোখের সামনে উন্মোচিত হবে। Continue reading “বিষয় “আত্মজ্ঞান””

মা

মা – একটা শব্দ। এই শব্দটা নিজেই একটা অস্তিত্ব। যেই অস্তিত্ব অনেক গুলো অস্তিত্বের জন্ম দেয়। অনেকগুলো অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে। জীবনের দৌড় ঝাপগুলো যাকে ছাড়া মোমের মূর্তি হয়ে থাকে।
মা – একটা শব্দ, যে শব্দের অর্থই হল ত্যাগ। শুধুই ত্যাগ, নিজে না ঘুমিয়ে তার ঘুম গুলো জমিয়ে রাখে তার অসুস্থ্য মেয়ের জন্য। নিজে না খেয়ে খাবারটা রেখে দেয় তার অভুক্ত শিশুর জন্য। কেন জানো? কারন সে নিজে খেয়ে ফেললে তার সন্তানের যদি কম পড়ে যায়? নিজের অর্ধভাংগা স্বপ্নগুলো পূর্ণ করে দেখে তার স্বামির চোখে। নিজের সুখ? উহু তার সন্তানদের হাসিমুখই তো তার সুখ। কখনো ইদ বা কখনো পুজা যাই হোক না কেন ছেলেমেয়ের জন্য নতুন জামা চাই ই চাই। তাতে নিজের পরনের শাড়িটা যদি কুচির নিচে ছিড়াও থাকে, তাতে কি? Continue reading “মা”

চিঠির সেকাল একাল

এলাহী ভরসা। পাকজনাবেষু ভাইজান, আমার শত কোটি সালাম গ্রহণ করিবেন। বাটিস্থ সকলকেই শ্রেণীমতো আমার সালাম ও ভালবাসা পৌঁছাইয়া দিবেন। পর সমাচার এই যে… ফিরতি ডাকে পত্রের উত্তর দিবেন। বি.দ্র. গত বছর বাউলা হাটে কেনা গাই গরু বকনা বাছুর বিয়াইছে। প্রতিদিন চার সের করিয়া দুই দিতেছে। সাধু ভাষায় লিখিত নিকট অতীতের এই চিঠি প্রবীণদের কাছে আজ শুধুই স্মৃতি। প্রজন্মের কাছে অনেকটাই বিস্ময়। বিশ্বাসই করতে চায় না, এভাবে চিঠি লেখা হতো। সেদিনের চিঠির ভাষায় শ্রদ্ধেয়দের ‘আমার কদমবুচি গ্রহণ করিবেন’ বাক্যে কদমবুচি শব্দের অর্থ (পায়ে ছুঁয়ে সালাম করা) অনেকেই জানে না। একটা সময় সাদা অথবা বঙিন কাগজে কালির কলম (দোয়াতের কালি কলমে ভরে) দিয়ে লেখা চিঠি ডাকঘরের (পোস্ট অফিস) হলুদ খামে ভরে ঠিকানা লিখে ডাকবাক্সে ফেলে দিলে দূরত্ব অনুযায়ী দিনা কয়েক পরে গন্তব্যে পৌঁছত। Continue reading “চিঠির সেকাল একাল”

কেউ জানে না

এক সময় কেউ জানবেনা সিনেমা হলে মর্নিং শো নামের একটা শো হত যেখানে এক টিকিটে দুই ছবি দেখানো হত। এক সময় কেউ জানবেনা স্কুল ব্যাগে সিভিল কাপড় লুকিয়ে রেখে স্কুল পালানোর গল্প। এক সময় কেউ জানবেনা শবে বরাতের রাতে ঢাকা শহর চোষে বেড়ানোর গল্প। এক সময় কেউ জানবেনা সন্ধার পর কারেন্ট চলে গেলে বিনা নোটিশে এক সাথে সবার জড়ো হবার গল্প। এক সময় কেউ জানবেনা শীতের রাতে ফেলে রাখা চার দেয়ালের মাঝে ব্যাট মিন্টন খেলার গল্প। এক সময় কেউ জানবেনা তিন গোয়েন্দা পড়ে গুপ্তধন খুঁজতে যাওয়ার গল্প! এক সময় কেউ জানবেনা বাঁশের এন্টেনা ঘুড়িয়ে বিটিভি বা ইটিভি দেখার গল্প। সেই ইত্যাদি, ছায়াছন্দ, মিনা, টারজান, সিন্দাবাদ, আলিফ লায়লা অথবা রেসলিং দেখার গল্প। Continue reading “কেউ জানে না”

Page 1 of 212