তোর জন্য, প্রিয়তা (প্রথম পর্ব)

আয়োজন করে তোমাকে চিঠি লিখতে বসেছি। আধ পোড়া মোম বাতি জোগাড় হয়েছে। অন্ধকার ঘরের চার দেয়ালে আলো ছায়ার খেলা খেলতে খেলতে নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে সে। পাশে রাখা কোনা ভাঙ্গা কাপ আর ফ্লাক্সে আছে অতিরিক্ত চিনিওয়ালা চা। গুনে গুনে ৩ কাপ চা খেয়ে তোমায় লিখতে বসেছি। জানো তো তিন হচ্ছে প্রাইম সংখ্যা। তিন মানে আমি-তুমি-সে। তিন মানে স্বর্গ-মর্ত-নরক। সাথে সিগারেট নেই। আনতে ইচ্ছা করছে না। বয়সের সাথে আলস্যের সম্পর্ক সমানুপাতিক। ঊনত্রিশ হাজার সিগারেট কে চুম্মন করে এই ঠোঁট আজ ক্লান্ত। এমনিতেও তুমি সিগারেট পছন্দ করতে না। একদিন ক্লাস শেষে সিগারেট ধরাতেই হঠাৎ মুখের মধ্যে পানি ছুঁড়ে মেরেছিলে! মেরে এমন ভাব করলে এটাই স্বাভাবিক। আমাকে পানি মেরেই তোমার দিন কাটে! ভেজা শার্ট নিয়ে সারাদিন পিছে পিছে ঘুরলাম একটা সরি’র আশায়। Continue reading “তোর জন্য, প্রিয়তা (প্রথম পর্ব)”

বাং গালীর আবেগ

আমরা বাংগালীরা জগতের সব চেয়ে আবেগ প্রবণ জাতি। আমি অন্তত তাই বুঝি। আর সেই আবেগী জাতির অর্ধ শিক্ষিত নারী (হোক সে স্ত্রী, মা, বোন কিংবা প্রেয়সি) যখন দেখবে তার প্রাণের প্রিয় মানুষটি বিদেশের মাটিতে পড়ে আছে আর সেই মাটিতে মৃত্যুর মিছিল তখন তারা তাদের প্রিয়জনকে দেশে আসার জন্য অনুনয় বিনয় করবে। এমন কি বাধ্য করবে।কারন সে অবলা নারীরা জানেনা এই দেশে ও করোনার ভয়াল ছোবল আসবে বা আসতে পারে। যেহেতু অতীতে কোনো ভয়াবহ ভাইরাস এভাবে আমাদের কাঁধে চেপে বসেনি বা দেখতে হয়নি। এই রেমিটেন্স যোদ্ধাদের কি দোষ বলেন? মৃত্যু উপত্যকায় দাঁড়িয়ে সে কিভাবে তার প্রিয়জনের ডাক উপেক্ষা করবে? আপনি হলে কি করতেন? আমি হলে কি করতাম? Continue reading “বাং গালীর আবেগ”

অবিচ্ছেদ্য হৃদয়

খুব জানতে ইচ্ছে করে তুমি কেমন আছো? আমার দু’চোখ সারাটি দিন তোমার ঠিকানা খুঁজে খুঁজে ফিরে, আর প্রবল বৃষ্টিতে ফুলেফেঁপে ওঠা নদীর মত জলে থৈ থৈ করে। আমি তোমাকে কোথায় খুঁজে পাব? সেই যে গেলে চলে নিরবে অভিমানে, যা বলার ছিল বলে যদি যেতে হয়ত আজ আমি তোমার পাশেই রয়ে যেতাম। হয়ত নয়। কিন্তু শান্তনা পেত মন। হায় মন। পেয়ে হারানোর ব্যথা সে কি করে মেনে নেবে? এই মন গেঁথে রেখেছে তোমার চোখের না বলা সব কথাগুলি। কতটা কাজল আঁকা তোমার দু’চোখে আমি ছাড়া আর কে জানে? হু। আর আমাদের রব জানেন। তিনিতো সবই জানেন, আমি তোমাকে কতটা বেসেছি ভাল। তুমি কেন জানলে না? Continue reading “অবিচ্ছেদ্য হৃদয়”

মুরগীর খানাপিনা

খদ্দের খেতে খেতে হোটেল মালিককে বললেন,
– “বাঃ, মুরগির মাংসটা তো বেশ নরম আর সুস্বাদু।”
হোটেল মালিক,
– “হবে না কেন স্যার, পোষা মুরগি, আর যা খাওয়াই…কাজু, কিসমিস, প্রোটিনেক্স!”
– “কী? মুরগিকে কাজু…কিসমিস? ব্ল্যাক মানি রাখার আর জায়গা পাচ্ছেন না বুঝি? দেখি আপনার সব হিসাবের খাতাপত্তর।”
খদ্দের খাবারের দাম তো দিলেনই না, উল্টো দু’হাজার টাকা পকেটে পুরে চলে গেলেন। খদ্দেরটি ছিলেন ইনকাম ট্যাক্স অফিসার।

ক’দিন বাদে আরেকজন মুরগি খেয়ে খুব খুশি হয়ে বললেন, Continue reading “মুরগীর খানাপিনা”

ভালোবেসো কবিতাকে, ভালোবেসো কবিটাকে

মনীষীরা ভালোবাসাকে দেখেছেন নানা রঙে-রূপে। কেউ ভালবাসাকে দেখেছেন জীবন হিসেবে কেউ বা বিনাশের অপর নাম হিসেবে। প্লেটোর মতে, ‘প্রেমে পড়লে সবাই কবি হয়ে যায়’। আবার সেন্ট জিরোথী বলেছেন, ‘ভালোবাসার কোনো অর্থ নেই, কোনো পরিমাপ নেই’। অর্থাৎ এটা এক মায়াজাল। আনাতোল ফ্রাঁস দেখেছেন ‘মানুষের একটি শাশ্বত ও মহান প্রয়োজন হচ্ছে প্রেম’। অস্তিত্বের সাথে ভালোবাসাকে মিলিয়েছেন — ফয়ের বাখ। তাঁর মতে, ‘যেখানে প্রেম নেই, সেখানে সত্যি নেই; কেবলমাত্র তারই মূল্য আছে যে কোনো কিছুকে ভালোবাসে, ভালোবাসা না থাকলে নিজের অস্তিত্ব না থাকারই শামিল।

বিরহ-মিলনের সমীকরণ টেনে কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন, Continue reading “ভালোবেসো কবিতাকে, ভালোবেসো কবিটাকে”

অদ্ভুত আঁধার (প্রথম পর্ব)

বেঙ্গল গ্যালারিতে এসে বেশ অবাকই হলাম। এখানে এসেছি বিপাশার একক চিত্রপ্রদর্শনী দেখতে। প্রদর্শনীর নাম ‘আসছে ফাগুনে দ্বিগুণ হব’ নামে-চিত্রকর্মে মুগ্ধ হলেও দূর থেকে বিপাশাকে দেখে চিনতে আমার বেশ কষ্টই হলো। ওকে শেষবার দেখেছিলাম বছর দশেক আগে। অনেক বদলে গেছে বিপাশা, বুড়িয়েও গেছে খানিকটা। ও যখন ছোট ছিল, তখন আমি যে খুব-একটা বড় ছিলাম; তাও না। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার চার ক্লাস নিচে পড়ত বিপাশা। আমি বাংলায়, ও চারুকলায়। ওর প্রেমিক বশির আমার সহপাঠী ছিল। সেই সূত্রে বশিরের ওপর ছিল আমার অনিবার্য ঈর্ষা। বন্ধুর সাফল্যে ওপরে-ওপরে উল্লসিত হলেও ভেতরে-ভেতরে মানুষ জ্বলে-জ্বলে অঙ্গার হয়, পুড়ে-পুড়ে খাক হয়। নিজে অভুক্ত থাকার মাঝে যত যন্ত্রণা, এর চেয়ে বেশি যন্ত্রণা বোধ হয় অন্যকে খেতে দেখলে। Continue reading “অদ্ভুত আঁধার (প্রথম পর্ব)”

Page 2 of 23812345...102030...Last »