টিয়া ও রূপবতী কইন্যা

“এক তরুণী মেয়ে দোকানে গেল একটা কথা বলা টিয়ে পাখি কিনতে। দোকানদার একটা পাখির খুব প্রশংসা করল, এটা নাকি সব বুঝে, নিজে থেকেই অনেক কিছু শিখে নেয়।
মেয়েটা খুশি হয়ে পাখিটাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করল,
“আচ্ছা আমাকে দেখে আমার সম্পর্কে কি মনে হয় তোমার?”
পাখিটা ঠাস করে বলে বসল,
“বেশী সুবিধার না, বাজে মাইয়া!”
মেয়েতো পুরাই টাশকি খেয়ে গেল! রেগেমেগে দোকানদারকে গিয়ে অভিযোগ করল। দোকানদার পাখিটাকে ধরে এক বালতি পানিতে কয়েকটা চুবানি দিল, এরপর জিজ্ঞেস করল,
“আর খারাপ কথা বলবি?”
পাখিটা ভালো মানুষের (!) মত মাথা নাড়ায় আর বলে,
“না না , আর বলব না” Continue reading “টিয়া ও রূপবতী কইন্যা”

হ্যাঁ দ্বিধা না

কখনো কখনো
আমার হ্যাঁ মানে না,
না মানে হ্যাঁ।
কিন্তু আবার
হ্যাঁ মানেও হ্যাঁ,
না মানেও না!!!

তুমি নিজেও জানো না, এই মূহুর্তে যার “হ্যালো” মেসেজটি পেয়ে তুমি SEEN করে রেখে দিচ্ছো, যার “কেমন আছো?” প্রশ্নটার উত্তরে দায়সারাভাবে “ভালো” বলে এড়িয়ে যাচ্ছো, একদিন ঐ মানুষটার জন্যই তুমি পাগলের মত অপেক্ষা করবে। তোমার চারপাশের শত শত মানুষের ভেতরেই সেই মানুষটা আছে, যার হাত মুঠোয় ধরে তোমার সামনের সবগুলো বসন্তের বিকেল কেটে যাবে, তুমি সেই মানুষটাকে হয়তো এই মূহুর্তে দেখছো, হয়তো কথা বলছো তার সাথেই। কিন্তু তোমার সুদূরতম কল্পনাতেও তুমি ভাবছো না, দুই কিংবা পাঁচ বছর পরে এই মানুষটাই তোমার জীবনে কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়ে আসবে !! Continue reading “হ্যাঁ দ্বিধা না”

সংসদ, বায়োষ্কোপ কিংবা চিড়িয়াখানা

আকাশে আকাশ নেই,
চাঁদ মরে গেছে চাঁদের ভিতরে!
জলে লেগেছে জলের আগুন;
আমি নিভাই কি করে!
– রুদ্র গোস্বামী

খুব ছোট বেলায় বাবা-মা’র হাত ধরে একবার মিরপুরের চিরিয়াখানায় গিয়েছিলাম। সে অনেক আগের কথা। খুব আবছা, আবছা মনে আছে। আমি আর আমার ছোট ভাই রবি হেঁটে হেঁটে, কখনো বা দৌড়ে এক খাঁচা থেকে আরেক খাঁচায় যাচ্ছি আর দেখছি জন্তু-জানোয়ারদের। খুব সম্ভবত আমাদের ছোট বোনটা অনেক ছোট অর্থাৎ কোলে। হঠাৎ হঠাৎ কান্না-কাটি ছাড়া বিশেষ কিছুই করতে পারে না। সকালে বের হয়ে চিড়িয়াখানা ঘুরে, সংসদ ভবন দেখে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরেছি আমরা। সে এক স্বপ্নিল দিন। আজো চোখ বুজলে, বায়োস্কোপের মত করে সাদা-কালোয় দেখতে পাই – “আমাদের সোনালি দিন”। Continue reading “সংসদ, বায়োষ্কোপ কিংবা চিড়িয়াখানা”

হত্যা নাকি আত্নহত্যা (প্রথম পর্ব)

এই ভেবে আর আহত হবনা আমি,
আমার মানবী বুকে একদিন চাঁদ মরেছিল।
বেঁচে থেকে থেকে বুঝেছি, মরে যাওয়া কত ব্যথা দেয়।
– রুদ্র গোস্বামী।

ডিপ্রেশনে ভোগা মানুষগুলো অনেক বেশি আত্মহত্যাপ্রবণ হয়। যারা কিছুটা ডিপ্রেশনে ভোগে, তারা হয়তো রাতে একবেলা না খেয়ে নির্ঘুম একটি রাত কাটায়। বারান্দায় দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে তার হতাশা গুলোকে ছাইয়ের সাথে উড়িয়ে দেয়। খুব বেশী হলে কোন নির্মাণাধীন ভবনের কোন এক নির্জন জায়গা খুঁজে নিয়ে সেখানে নেশায় বুদ হয়ে থাকে। কিছুদিন পর এরা ঠিকই স্বাভাবিক হয়। Continue reading “হত্যা নাকি আত্নহত্যা (প্রথম পর্ব)”

টোনাটুনি কিংবা উজির নাজির

আমি আবার বিতং না করে কিছুই বলতে পারিনা, তাই হাতে সময় নিয়ে পড়তে বসাই ভালো। আর তাছাড়া আমার বিশ্বাস, কেউ কেউ অন্য কারো জীবনে ঘটে যাওয়া টুকরো টুকরো ঘটনায় নিজেকে দেখা যায় কিনা সেটা জানতেও ব্লগ পড়তে আসে। তাহলে শুরু করি, আমার রুমের সাথে লাগোয়া বারান্দা। কিন্তু আমার বারান্দায় বাসার মানুষদের আনাগোনা কম। নিতান্তই খুব প্রয়োজনে। কারন, আমি একা থাকতে পছন্দ করি। শুধু একা হলেও কথা ছিলো। আমার পুরো বিষয়টাই ভিন্ন। আমি গ্রীষ্ম-বর্ষা-শরৎ-হেমন্ত-শীত ও বসন্ত সকল ঋতুতে দরজা-জানালা বন্ধ করে পর্দা দিয়ে ভালো করে ঢেকে রাখি। Continue reading “টোনাটুনি কিংবা উজির নাজির”

সম্পর্কের সাতকাহন (প্রথম পর্ব)

এক পৃথিবীর একশ রকম স্বপ্ন দেখার
সাধ্য থাকবে যে রূপকথার ,
সে রূপকথা আমার একার।
– জয় গোস্বামী

একটা সময় ছিলো, আমি দেশে এলেই পুরনো বন্ধুদের নাম্বার যোগার করে তাদের সাথে দেখা করতাম। ৬/৮ সপ্তাহর ছুটি গুলো কোথা দিয়ে যে চলে যেত টেরই পেতাম না। বিদায় বেলায় মায়ের অভিমান। আমি নাকি তাদের একটুও সময় দেই নাই। ডিপার্চারের পূর্ব মূহুর্তে আমি মা’র পায়ে সালাম করে মাকে জড়িয়ে ধরে বলতাম,
– “পরের বার এলে তোমাকেই সবচেয়ে বেশি সময় দেবো। তোমাদের পাশ্চাত্য ধাঁচে রান্না করে খাওয়াবো, তোমাদের নিয়ে ঘুরতে বের হবো।” Continue reading “সম্পর্কের সাতকাহন (প্রথম পর্ব)”

Page 247 of 248« First...102030...244245246247248