গল্পের খসড়া


নিজের ঘরে প্রদীপ না জ্বললে, অন্য কেউ এসে প্রদীপ জ্বালিয়ে দিয়ে যাবে না। বরঞ্চ অন্যরা এসে জ্ঞান দিয়ে যাবে, কেনো প্রদীপ জ্বলেনি, কেনো আগে তেল কেনা হয়নি, কেনো দিয়াশলাই জোগাড় করে রাখা হয়নি। যদিও এই বিনামূল্যে জ্ঞান আহরণ করে নিজের কোনো উপকার হয় না, প্রদীপ জ্বলে, অন্ধকার ঘর আলোকিত হয় না। এই অন্ধকার ঘর নিয়ে কোথায়ও যাওয়া উচিত নয়, যার কাছেই যাবেন সেখানেও দেখবেন অন্ধকারের হোলি খেলা চলছে মহাসমারোহ। আপনার হয়তো দো-চালা ঘর অন্ধকারে, প্রদীপ বিহীন; কিন্তু যার কাছে যাবেন সেখানে গিয়ে দেখবেন, শুনবেন তাঁর রাজপ্রাসাদসম বাড়িই অন্ধকারে, প্রদীপ জ্বলেনি, অন্ধকারে নিমজ্জিত। উল্টো অপরাধবোধে ভুগবেন, কেনো তাঁর কাছে একটু আলো চাইতে গিয়েছিলেন! নিজের ঘর বাদ দিয়ে, তাঁর রাজপ্রাসাদে আলোর ব্যবস্থা করতে দুর্দান্ত ইচ্ছে হবে। Continue reading “গল্পের খসড়া”

আদি বিদ্যা

চাউল চুরি নিয়ে বলার কিছু নাই। কারণ একসময় আমি নিজেই এই পেশার সাথে জড়িত ছিলাম। ছোট বেলায় চাউল চুরি করে অসংখ্যবার আম্মার হাতে ধরাও খেয়েছি। গ্রামে গঞ্জে বড় হওয়া মেক্সিমাম ছেলেমেয়েই চাউল চুরি পেশার সাথে জড়িত ছিল। ইদানীং দেখছি এরা চাউল চুরির বিরুদ্ধে বড় বড় রচনা লিখছে। আমার বন্ধু বাবলুকেও দেখলাম চাউল চুরি নিয়ে ফেসবুকে বিরাট স্টেটাস দিয়েছে। অথচ ছোট বেলায় সেও চাউল চুরি করতো এবং প্রায়শই ধরা খেতো। বাবলুর হাত ধরেই এ লাইনে এসেছিলাম। আমি অবশ্য চাউল চুরির টাকা দিয়ে সাদা বিস্কুট, শাকুরা লজেন্স কিনে খেতাম। আর বাবলু চোরাই চালের টাকা দিয়ে তার প্রেমিকা জিবুন্নাহারকে আলতা, ফিতা, চুড়ি, টিপ কিনে দিতো। Continue reading “আদি বিদ্যা”

দহন

১.
– মা, আব্বারে কও লালিরে যেন না বেচে।
– কি কইস বাজান। না বেচলে আমরা খামু কি।
– না খায়া থাকুম। তাও বেচতে পারবা না।
– এমন করে না বাপধন। গরু না বেচলে তোর স্কুলের ট্যাকা দিতে পারুম না। তোরে সুন্দর একখান পিরান কিন্না দিমু।
– আমার কিছু লাগবো না মা। তোমরা লালিরে বেচতে পারবা না।
মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে ঢুকরে কেঁদে উঠে আট বছরের কাশেম। মা হাত দিয়ে ছেলের চোখের পানি মুছে দিয়ে ছেলেকে বুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। কাশেম ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে এক সময় মায়ের বুকে ঘুমিয়ে যায়।

২.
– মামনি, আমাদের গরু কখন আনবে?
– এইতো বাবা আগামী গরুর হাট থেকেই তোমার বাপি গরু কিনে আনবে। Continue reading “দহন”

আসছে ফাগুনে দ্বিগুণ হবো

তখনও মোবাইল ফোন আসে নি গ্রামে, কিন্তু প্রেম এসে গেছে। তাকে দেখেই বুকের ভেতর দম আটকে গেল। চিনচিনে ব্যথা। রাতভর কেমন কান্না কান্না লাগে। ঘুম হয় না। চোখ বুঝলেই সেই চোখ, সেই হাসি, সেই মুখ! কিন্তু উপায়? উপায় আবার কি? চিঠি!দুরুদুরু বুকে চিঠি লিখলাম। সেই চিঠি বন্ধুরা নিয়ে গেলো। ফিরে এলো করুণ মুখ করে। মিষ্টি মুখের নরম মেয়েটা কঠিন গলায় বলে দিয়েছে,
– ‘এই চিঠি সে নেবে না। সে আমাকে চেনে না’।
আমার ধারণা ছিল আমি ভীতু। আসলেও তাই। মেয়েদের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারি না। গলা শুকিয়ে যায়। হাত পা কাঁপতে থাকে। কি বলবো ভেবে পাই না। দরদর করে ঘামতে থাকি। সেই আমার সেদিন হঠাৎ কি হলো! মুহূর্তেই দুরন্ত সাহসী হয়ে গেলাম। চিঠিটা বুক পকেটে নিয়ে পরদিন ভোরে দাঁড়িয়ে রইলাম পথের পাশে। সে এলো। আমি ধীর পায়ে তার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। Continue reading “আসছে ফাগুনে দ্বিগুণ হবো”

প্রবাসে যাপিত জীবন (দশম পর্ব)

জাপানিজ টকিজ
কলেজে উঠার পর থেকেই মাথার মধ্যে ভূত চাপে আমার। ডকুমেন্টারি, ড্রামা, মিউজিক ভিডিও, অ্যাড, শর্ট ফিল্ম এবং ফুল লেংথ ফিল্ম বানানো দরকার। সকাল-বিকাল আইডিয়ারা মাথা ধরে ঝাকি মারে, আর নিদ্রায়-জাগরনে হ্যান্ডিক্যাম নিয়া ডিরেকশন দেয়ার জন্য মনখানা অকারনে আকুলি-বিকুলি করে। জাপানে এসেছি আর বিশ্ব বিখ্যাত জাপানিজ থিয়েটার দেখবো না তা কি হয়? সেদিন আমি আর আমার বন্ধু গিয়েছিলাম জাপানিজ থিয়েটার দেখতে। এক কথায় চমৎকার। অন্যরকম অভিজ্ঞতা। সব কিছু ঠিক ছিলো, শুধু ভাষাটাই বুঝি নাই। Continue reading “প্রবাসে যাপিত জীবন (দশম পর্ব)”

প্রেম তুমি কি

পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই
আছে শুধু জ্বালা,
তোর মনে চাবি বলে কিছু নেই
আছে শুধু তালা।”

মেয়েদের “ক্লোজ বান্ধবীরা” খুবই অদ্ভুত প্রাণী। ধরেন একটা ছেলের সাথে মেয়েটার প্রেম হইলো। যে ছেলের সাথে প্রেম হইলো, এই বান্ধবীরা প্রেমের শুরুতেই সেই ছেলেরে জিজু, দুলাভাই ইত্যাদি ডাইকা অস্থির কইরা ফেলবে এবং মাশাল্লাহ, মেড ফর ইচ আদার উপাধিতে সেই জুটিকে অভিনন্দন জানাবে। একদিন সেই প্রেমটা ভাংবে। এরপর সেই বান্ধবীরা অতি অবশ্যই স্টেটমেন্ট দিবে –
“রিলেশনের শুরু থেকেই এরা জানতো যে রিলেশনটা টিকবে না, কিন্তু সম্পর্ক খারাপ হওয়ার ভয়ে এতোদিন কিছু বলে নাই।” Continue reading “প্রেম তুমি কি”

Page 30 of 270« First...1020...2829303132...405060...Last »