প্রজন্মের জন্য অবশ্য দ্রষ্টব্য

এডজাস্টমেন্ট আর কম্প্রোমাইজ বহু ব্যবহৃত দুটো শব্দ। মানব সম্পর্কের সাস্টেইনিবিলিটি আর ডেভেলপমেন্ট এর সাথে এই শব্দ দুটো ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সমস্যা হল আমরা বেশীরভাগ মানুষ এই শব্দদুটোর সঠিক প্রয়োগ এবং ব্যবহার জানি না এবং দুটোকে প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহার করি। অথচ এদের শাব্দিক অর্থ পুরাপুরি আলাদা এবং বিপরীত। এডজাস্টমেন্ট মানে হল ছোট ছোট চেঞ্জ এর সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়া বা খাপ খাওয়ানো। ধরেন আপনি এবং সে একসাথে বাইরে খেতে যাবার প্ল্যান করলেন। আপনার চাইনিজ খেতে ইচ্ছা হল কিন্তু প্রেমিক/প্রেমিকা/স্বামী/স্ত্রীর ইচ্ছা ইন্ডিয়ান খাবার খাওয়ার। আপনি তার পছন্দকে সম্মান জানিয়ে ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে গেলেন। অথবা, কোন পার্টিতে যাবার সময় আপনি ভাবলেন সালোয়ার কামিজ পরবেন কিন্তু আপনার স্বামী/প্রেমিক অনুরোধ করলেন শাড়ি পরতে। আপনি ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও সেদিনের মত তার পছন্দকে প্রাধান্য দিলেন, অথবা স্বামী স্ত্রী মিলে ঠিক করে নিলেন মশারী তিনদিন সে টানাবে, চারদিন আপনি। সেটা হল এডজাস্টমেন্ট। Continue reading “প্রজন্মের জন্য অবশ্য দ্রষ্টব্য”

সুহাসিনী

প্রিয়তমেষু,

পত্রের শুরুতেই শুভেচ্ছা নিও। ভাল আছো তো? না থাকলেও থেকো। ভাল থাকাটা দরকার। যদি তাও না পারো অন্তত অভিনয় করো ভাল থাকার। এটাই এমূহূর্তে অত্যন্ত জরুরি। ঠিক যেভাবে ভাল থাকে আগুনের সঙ্গে অক্সিজেন। তুমি তো একা থাকতে পারো না প্রিয়তমেষূ। তার পরেও জীবন তোমাকে একাই চলতে শিখিয়েছে। চলতি পথে যখন সামনের পথ রুদ্ধ হয় ঠিক হরর মুভ্যির দৃশ্যপটের মতো, তখন চোখ বন্ধ করে একবার গভীরভাবে শ্বাস ছেড়ে পা ফেলো সামনের পানে। বিশ্বাস রেখো সৃষ্টি কর্তায়। একটু কষ্ট হবে বৈকি। কিন্তু সেটা বেশিক্ষণের নয়। তুমি পারবে, পারতে তোমাকে হবেই। ঠিক যেভাবে মানুষ তৈরি করেছে মহাকশের মধ্যে যন্ত্রযান। সেখানেও কিন্তু মানুষ থাকে, তা কি তুমি জানো না?

ফিরে তাঁকাও ফেলে আসা পেছনের দিকে। চোখ বন্ধ করো। Continue reading “সুহাসিনী”

কাগজের নৌকা

সব কিছুতেই মুগ্ধ হওয়ার অসম্ভব ক্ষমতা আমার। আশেপাশের যাই দেখি তাতেই মুগ্ধ হই। রাস্তার পাশে মুড়িওয়ালাকে দেখে অবাক হই। খুব নিমগ্ন চিত্তে তাঁর মুড়ি মাখানো দেখি। হাত আর চোখের সন্নিবেশন দেখি। কত অল্প সময়েই সে একঠোঙ্গা মুড়ি মাখিয়ে ফেলে। দুর্দান্ত। মাঝেমধ্যেই দেখি এক হাতে হ্যান্ডেল ধরে গান গাইতে গাইতে রিক্সা চালাচ্ছে চালক। একই সাথে তাঁর ব্রেইন কত নিখুঁতভভাবে কয়েকটি কাজ চালাচ্ছে। গান, প্যাডেল, দিক, গানের সাথে সাথে হয়তো সে কোন স্মৃতি মনে করছে। অপূর্ব।

রাস্তায় হাটার সময় আমি প্রায়শঃ চারদিকে দেখতে দেখতে যাই। আমার ভাল লাগে। মুগ্ধ হতে ভাল লাগে। ছোটবেলায় বাবার সাথে Continue reading “কাগজের নৌকা”

কেউ সুখি নয়

কখনো কি ভাবা হয় তুমি ঠিক তোমার নিজের কতোটুকু? তুমি নিজের জন্য ঠিক কতোখানি বাচোঁ? তুমি যখন সন্তান তখন তুমি তোমার বাবা-মায়ের, পরিবারের। তাদের আদেশ- নিষেধ এর নিয়মের পালনকারী। ভালো রেজাল্ট, ভালো হয়ে থাকার প্রচেষ্টা সব বাবা-মায়ের মান সম্মানের খাতিরে। শিক্ষা তোমার নিজেরই কিন্তু তবুও তোমার ইচ্ছের না কারন হয়তো তুমি। আকাশ ছোয়ার দুর্নিবার ইচ্ছায় হতে চাও তুমি পাইলট। কিংবা সমুদ্র জয়ের নেশায় হতে চাও ডুবুরি। কিন্তু তারা চায় তুমি হও ডাক্তার বা হও বড় কোন অফিসার। তুমি চাও নিজ পায়ে দাঁড়াতে আর তারা চায় তুমি সংসারী হও। যখন তুমি এই ধাপ পেরিয়ে একটু স্বাধীনতার দিকে পা বাড়াও ঠিক তখনি সেখানে স্বাধীনতার চেয়েও দায়িত্বশীলতার ভার চলে আসে বেশি। তখন জীবন তোমার চেয়েও অন্যদের জন্য হয়ে যায় বেশি। Continue reading “কেউ সুখি নয়”

আমিই আমার সিন্ডিকেট (পঞ্চম পর্ব)

আমি যার হাতে ফুল তুলে দেই,
সে-ই প্রথম ভুল বোঝে আমাকে।
কিছু মানুষ আমার কাছে ফুল প্রত্যাশা করে। আমি জানি তারা আমাকে পছন্দ করে বলেই হয়তো তাদের পছন্দের কথা জানাতে দ্বিধা বোধ করে না। কিন্তু আমি তাদের কিছুই বলি না। হেসে ব্যাপারখানা হালকা করে ফেলি। আবার উপরের কবিতাখানাও অনুচ্চারিতই থেকে যায়। ভালোবাসার ক্ষুদা অসম্ভব রকমের ভয়ঙ্কর ব্যাপার। এর ধ্বংসাত্মক ক্ষমতার কাছে সাধারণ মানুষ কিছুই না। আর তাইতো এই ভালোবাসা নামক মায়াই কিছু মানুষকে রাত জাগা শেখায় আর কিছু মানুষকে রাতের আঁধারে পালিয়ে বাঁচায়।

সৃষ্টিকর্তা মানুষকে অসম্ভব অনূভুতি দিয়েছেন, দিয়েছেন অসম্ভব আনন্দিত হবার ক্ষমতা। যিনি কষ্ট দেন আনন্দও নিশ্চয়ই তাঁরই দেয়া। Continue reading “আমিই আমার সিন্ডিকেট (পঞ্চম পর্ব)”

ছেলেবেলার আঁকি-বুঁকি

ছোট বেলায় প্রাকৃতিক দৃশ্য আঁকার ঝোঁক ছিলো। কিছু না পেলেই প্রাকৃতিক দৃশ্য আঁকতে বসে যেতাম। ছবিতে থাকতো একটা বড় ঘড়। তারপাশে ছোট ছোট আরো কিছু ঘর। বড় ঘড়ের পাশে কিংবা পেছনে একটা বিশাল আকারের গাছ। পাশে কূপ অথবা টিউবওয়েল। তার পাশে একটা খড়ের পুঁজি। কিছু লম্বা সুপারি গাছ আর খেজুর গাছ। একদিকে কলা গাছ। বাড়ির একপাশে বাঁশের বেড়া। তারপর বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। মাঠের মাঝ দিয়ে সরু মেঠো একলা পথ দূরে গিয়ে মিশেছে। দূরে কাগজের একমাথা থেকে আরেক মাথা পর্যন্ত সবুজ গাছ। সামনে দিয়ে নদী এঁকেবেকে দূরে চলে গিয়েছে।

নদীর মাঝে দুদিকে দুটো চলমান পাল তোলা নৌকা। Continue reading “ছেলেবেলার আঁকি-বুঁকি”

Page 4 of 238« First...23456...102030...Last »