কর্পোরেট স্লাট (দ্বিতীয় পর্ব)

আমাদের হোস্টেল থেকে ঐ হোস্টেলে হেঁটে যেতে দশ মিনিট লাগে, রিকশায় যেতে পাঁচ মিনিট। এত রাতে রিকশা নাই, তাই দৌড়েই গেলাম। এক সাথে বিশ পঁচিশ জন ছেলে হৈ হৈ করে দৌড়াচ্ছে দেখে জানালা দিয়ে অনেকেই তাকাচ্ছিল। ভয় হচ্ছিল দুষ্কৃতিকারীরা তো নিশ্চয়ই খালি হাতে আসেনি! আমাদের বিশ পঁচিশজন ছেলেকে সাইজ করা তো কোন বিষয় না। উত্তরা হাই স্কুলের পাশের পার্কের কাছে গিয়ে দেখি আরেকটা হোস্টেল থেকে ছেলেরা আসছে। ওদের দেখে বুকে বল পেলাম। সামনে এগিয়ে দেখি আরো ছেলেপেলে। প্রায় একশ জনের বহর নিয়ে যখন ঐ হোস্টেলের কাছাকাছি গেলাম তখন দেখি ঐ হোস্টেলের সামনে এক দেড়শ ছেলে, সবাই এশিয়ান ইউনিভার্সিটির ছাত্র। Continue reading “কর্পোরেট স্লাট (দ্বিতীয় পর্ব)”

সুখের আগুন, জ্বলে দ্বিগুণ

পৃথিবীটা যত হাতের মুঠোয় আসছে, ততই মানুষের আত্মহতাশা বাড়ছে। মানুষ ততই অসুখী হচ্ছে, অশান্তিতে ভুগছে। আত্মহননের মতো ভয়ংকর সিদ্ধান্তও বেড়ে যাচ্ছে দিনকে দিন। মরে যাওয়াকেই সমাধান মনে করছে তারা। যে মানুষের গন্ডি যত বড়, যে মানুষ দুনিয়া সম্পর্কে বেশি জানছে ততই তার মধ্যে হতাশার পারদ বেড়ে যাচ্ছে। মানুষের হাতে একসময় তেমন টাকা ছিল না, কিন্তু ঘরভর্তি শান্তি ছিল, রাতে গভীর ঘুমে যেতো। কিন্তু এখন মানুষের হাতে টাকা আছে, দুনিয়ায় কার কী আছে তা জানছে। বিনিময়ে মনের অশান্তির অসুখে ডুবে যাচ্ছে।

বেশিরভাগ মানুষেরই এখন ‘ভাল্লাগেনা’ রোগে আক্রান্ত। এ রোগের ওষুধ জানা নেই। তবে পারিপার্শ্বিক তুলনামূলক ও প্রতিযোগিতামূলক লাইফস্ট্যাইল Continue reading “সুখের আগুন, জ্বলে দ্বিগুণ”

আমাকে জাগাও

ইচ্ছে করলেই কাউকে ভোলা যায় না। কিন্তু ইচ্ছে করলেই কারো মন থেকে নিজেকে সমূলে উৎপাটন করা যায়। ইচ্ছে করলেই শয়তান থেকে ফেরেশতা হওয়া যায় না। কিন্তু ইচ্ছে করলেই ফেরেশতা থেকে শয়তান হওয়া যায়। ইচ্ছে করলেই কারো কাছে বিশ্বস্ত হওয়া যায় না। কিন্তু ইচ্ছে করলেই বিশ্বাসঘাতক হওয়া যায়। কিছু মানুষ তো আছেই, যারা ইচ্ছে করেই মানুষের কাছে ‘অমানুষ’ হয়ে থাকেন! বিউগলের সুরের সময় নূপুরধ্বনি শুনতে পান। কিছু মানুষ তো আছেই, যারা প্রিয়মানুষটির সুদূরবিস্তৃত মঙ্গলার্থে ‘হেরে’ যান অনায়াসেই। প্রিয়মানুষটির কাছে ‘অস্পৃশ্য’ হয়ে যান একেবারেই। কিছু মানুষ তো আছেই, যারা নিজের সুসময়ে সবার কাছেই সস্তা হয়ে যান। Continue reading “আমাকে জাগাও”

সার্থপর মায়া, পরিত্যাক্ত অনুভূতি

পৃথিবীটা তো স্বার্থপর, আপনি কেন উদার? উদার হওয়ার আগে স্বার্থপর হোন। কাউকে ২ টাকা দিতে যাওয়ার আগে নিজেকে ১০ টাকা আয় করতে হয়। আগে নিজের ষোলআনা ঠিক রাখতে শিখুন, এরপর অন্যের জন্য চার আনা করবেন নাকি বারো আনা করবেন সে সিদ্ধান্ত নিবেন। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি কেউ আপনাকে ভালোবাসে না। আজ আপনি ভাবছেন কত লোকই না আপনাকে ভালোবাসে! অথচ আজ যদি আপনার চাকরিটা চলে যায়, কাল ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে কাউকে চাকরি খুঁজে দিতে বলুন। দেখবেন এতদিন যারা অপেক্ষায় থাকত কখন সকাল হবে আর আপনাকে ‘গুড মর্নিং ‘ বলে ম্যাসেঞ্জারে নক করবে। চাকরিটা যাওয়ার পরদিন থেকে দেখবেন ঐসব গুড মর্নিং বলে ম্যাসেজ দেয়ার পাখিরা আর আপনার ম্যাসেঞ্জারে নেই। ঘুম থেকে উঠে বেলকনিতে দেখবেন কালো কাক ডাকছে। আরে বস, Continue reading “সার্থপর মায়া, পরিত্যাক্ত অনুভূতি”

উপ নীতি দেশ

উপদেশ হিসেবে কথায় আছে – ‘কানাকে কানা, খোড়াকে খোড়া বলিও না। কারন তাঁরা কষ্ট পাইবে’। আবার নীতিকথা হিসেবে প্রবাদে আছে – ‘সদ্য সত্য কথা বলিবে’। পুরোটাই বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের মতো অবস্থা। দুইটি কথাই একে অন্যের সাথে রীতিমতো সাংঘার্ষিক। চালাক’রা উপরের দু’টিকেই ভালভাবে ফলো করে। কিভাবে করে? ‘ঝোঁপ বুঝে কোঁপ মারো’ থিওরি অ্যাপ্লাই করে তাঁরা। অর্থাৎ যেখানে যেটা প্রযোজ্য তখন সেটাই এপ্লাই করে। অবশ্য দুইটি ঘটনা যদি একই সময়ে উপস্থিত হয় তখন চালাকির বিচক্ষণতায় ভর করে বলে তাঁরা বলে- ‘নো কমেন্টস’। সবই ‘প্রয়োজন’। প্রয়োজনেই সব কিছু হয়। প্রয়োজনেই কেউ কাউকে খুন করে, আবার প্রয়োজনেই কেউ কারো জীবন বাঁচায়। মিথ্যা বলা মহাপাপ। কিন্তু প্রয়োজনে মিথ্যা বলা জায়েজ! Continue reading “উপ নীতি দেশ”

অ্যা লং হিষ্টোরি অফ অ্যা শর্ট জার্নি (সপ্তম পর্ব)

উনিশ
রাত কত হয়েছে কিছুই জানি না। আমি প্রচন্ড পেটের যন্ত্রনায়কাত্রাতে কাতরাতে বিছানার উপর গিয়ে পরলাম। মাথার যন্ত্রনা, তীব্র গরম ভাব আর শারীরিক দূর্বলতা নিয়ে হাস-ফাস করতে লাগলা। খুব দ্রুতই মনে হতে লাগলো, আমি আর নিঃশ্বাস নিতে পারবো না। আবার বমি আসছে। এক দৌড়ে বাথরুমে চলে গেলাম। বমি করা শেষে শাওয়ার ছেড়ে নিচে দাঁড়িয়ে রইলাম বেশ খানিক্ষণ। আমার সারা শরীর থেকে মনে হচ্ছে গরম আভা ঠিকরে বেরুচ্ছে। আমার চামড়ার নিচে এ যেন জলন্ত আগ্নেয়গিরি লুকিয়ে ছিলো। ঠান্ডা পানির প্রবাহ পেতেই যেন ঠিকরে বেরিয়ে এলো সব গরম ভাপ। আমি চোখ বুঝে আমার পরবর্তি করনীয় কি তা ভাবতে লাগলাম। বাকি রাত টুকু আল্লাহ আল্লাহ করে পার করে দিতে পারলে সকালে আমি ফার্মেসি থেকে ঔষধ কিনে আনতে পারবো কিংবা খুব খারপা লাগলে আমি ডাক্তারও দেখাতে পারবো। এই মূহুর্তে রাত টা পার করাই আমার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। Continue reading “অ্যা লং হিষ্টোরি অফ অ্যা শর্ট জার্নি (সপ্তম পর্ব)”

Page 4 of 270« First...23456...102030...Last »