বরাবর, সুহাসিনী

সুহাসিনী,
যদি ঘুম না আসে, যদি মাঝ রাত তোমায় কখনো আমার ভাবনায় ফেলে দেয় তখন কাগজ কলমে চিঠি লিখতে বসো। তোমার নির্ঘুম সময়ের এলোমেলো ভাবনা গুলোর গোছানো সাক্ষী করো আমায়। ভালোলাগা না হোক মন্দলাগা গুলোই নাহয় তুলে দিও চিঠির পাতায়। কপট রাগের সাথে তোমার যত অভিমান তাও ঢেলে দিও প্রতিটি শব্দের অক্ষরে অক্ষরে। জমিয়ে রেখো একটা একটা চিঠি ভাজ করে। তারপর যেদিন সুদিন আসবে। এক বিকেলে তুমি নীলমণি ফুল হাতে দাঁড়িয়ো আমার আপেক্ষায়, সাথে তোমার অসময়ে মন ভোলানো আমায় লিখা যত চিঠি। চিঠিগুলো নাহয় রঙিন কাগজের আড়াল দিয়ে মুড়িয়ে এনো। সে আড়াল ভাঙার অস্থির করা স্থবির সময় ঠেলে পার করে মধ্যরাতে ঘুমিয়ে পরা পৃথিবীটাকে জাগিয়ে রাখবো তোমার চিঠির কথায় কথায়। Continue reading “বরাবর, সুহাসিনী”

প্রিয় আব্বা

প্রিয় আব্বা,
মুখপুস্তিকায় তোমাকে লেখা এটা আমার বায়বীয় চিঠি। জানি পৌছাবে না তাও নিজেকে কিছুটা হাল্কা করা আরকি। আজ ২ মাস ২৬ দিন হলো তোমার সাথে আমার দেখা নাই। শেষ যেদিন দেখি তোমাকে, সেদিন রাত ছিলো। আমি পানি খেতে ডাইনিং রুমে গেলাম। দেখি, মেজো ভাই তোমাকে টয়লেট থেকে ধরে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিলো। আমি তাকিয়ে রইলাম তোমার দিকে। সেটাই তোমার সাথে আমার জীবিত অবস্থায় শেষ দেখা। কে জানতো এটাই আমাদের শেষ দেখা হবে? যদি জানতাম তবে আমি তোমার পায়ের কাছে পরে থাকতাম বাবা, সারা রাত – সারাদিন। বিশ্বাস করো। জুনের এক তারিখ খুব সকালে তোমার মৃত্যুর খবর যখন পেলাম আম্মু আর মেজ ভাইয়ের কাছ থেকে তখন এক দৌড়ে ছুটে গিয়েছিলাম তোমার রুমে। দেখি তুমি ঘুমাচ্ছিলে। নাকি অভিমান করে ছিলে আমার উপর? Continue reading “প্রিয় আব্বা”

গ্রুপের গ্রুমিং ফ্রুমিং

দিন শেষে আমরা ভয়ংকর সামাজিক হয়ে উঠছি! মুখপুস্তিকা আমাদের যেমন পারিবারিক বন্ধন কে হালকা করে দিচ্ছে, এই মতে সবাই যখন হা-না ভোটে ব্যাস্ত। তখন আবিষ্কার করলাম আসলে আমাদের কে এটা ভয়ংকর সামাজিক করে দিচ্ছে দিন দিন! একটু ঝেরে কাশি তবে! ধরেন আপনার স্কুল কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা। আপনাকে মুখপুস্তিকা কারেন্ট জালে আটকে ফেলবে। কিছু না, আপনার স্কুলের একটা গ্রুপে এড করবে কেউ, সাথে সাথে স্কুল সার্টিফিকেটের ব্যাচ গ্রুপ। এর পর কলেজের গ্রুপ, সেইখানেও সার্টিফিকেটের ব্যাচ গ্রুপ,সাথে অনুষদ বা ডিপার্টমেন্ট ব্যাচ গ্রুপ। এইগুলোকে স্ট্রং করতে বৃহত্তর এস এস এসি এবং এইচ এস সি গ্রুপ। টায়ার্ড? Continue reading “গ্রুপের গ্রুমিং ফ্রুমিং”

অদ্ভুত আঁধার (দ্বিতীয় পর্ব)

বিপাশা একদিন খুব ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় দেখা করতে এসেছিল আমার সাথে, বশিরের অনুপস্থিতিতে বিপাশার সাথে সেটিই আমার একমাত্র দেখা। বিপাশাকে একা পেয়ে বুক চিড়ে আমার কলজে বেরিয়ে পড়ার উপক্রম হওয়ার কথা, কিন্তু ওকে দেখে আমি উলটো আতঙ্কিতই হলাম। ওর মুখমণ্ডল যেন বিষাদের বিবর্ণ ক্যানভাস, কণ্ঠস্বর কুচকুচে কাকের মতো কর্কশ, চোখের নিচে কালশিটে। এতটা বিপর্যস্ত বিপাশাকে আমি আগে কখনও দেখিনি, দেখব বলে চিন্তাও করিনি।
– ‘নাজিম ভাই, আপনার তো বদরুল বাহারের সাথে বেশ ঘনিষ্ঠতা। স্কেচটা তাই আপনার কাছেই দিয়ে গেলাম। এটা দয়া করে তার কাছে পৌঁছে দেবেন, কিন্তু তিনি যেন কোনোভাবেই জানতে না পারেন স্কেচটা আমার আঁকা’
বলেই বিপাশা চলে যেতে উদ্যত হলো। মোড়ানো স্কেচটা খুলে দেখি গোটা বাহার ভাইকে আঁকলেও কেবল তার চোখ দুটো আঁকেনি বিপা! Continue reading “অদ্ভুত আঁধার (দ্বিতীয় পর্ব)”

কমল দাশগুপ্ত এসেছিলেন

‘সৎ পাত্রে কন্যা দান করলে বাবা যেমন নিশ্চিন্তে থাকেন, তেমনি নিশ্চিন্ত থাকতেন কাজী নজরুল ইসলাম সুরকার কমল দাশগুপ্তকে গান সুর করতে দিয়ে।’ উপমহাদেশের অন্যতম গুণী সুরকার, সংগীতজ্ঞ কমল দাশগুপ্ত প্রসঙ্গে এমনটাই মন্তব্য করেছেন নজরুল বিশেষজ্ঞরা। এমনকি প্রথিতযশা সংগীতশিল্পী ফিরোজা বেগমও জীবনকালে প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেছিলেন। আজ উপমহাদেশের গুণী এই সুরকারের ৪৫তম প্রয়াণ দিবস। ১৯৭৪ সালের ২০ জুলাই ৬২ বছর বয়সে নীরবে বিদায় নেন এই সংগীত ব্যক্তিত্ব। ছেলে শাফিন আহমেদসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই আজ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন কমল দাশগুপ্তকে। ‘পৃথিবী আমারে চায়’-এর মতো জনপ্রিয় আধুনিক গানসহ প্রায় আট হাজার গানের সুর করেছেন কমল দাশগুপ্ত। যার মধ্যে ছিল আধুনিক, নজরুলসংগীত, ভজন, গীত, গজল, কাওয়ালি ইত্যাদি। ৩০ বছর তিনি গ্রামোফোন কোম্পানিতে প্রধান সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। Continue reading “কমল দাশগুপ্ত এসেছিলেন”

নৈঃশব্দ্য

গাঁয়ের এক ফুপুকে পাত্রপক্ষ দেখতে এসেছে। পাত্রের চাচা বলল,
– মাটিত পানি ঢালেন’।
সকলে হন্তদন্ত হয়ে পানি ঢাললেন মাটির মেঝেতে। পাত্রের চাচা পান চিবুতে চিবুতে বললেন,
– ‘দেখি মা, খালি পায়ে এই পানির মধ্যে হাঁটো’।
ফুপু হাঁটলেন। শুকনো মাটিতে তার ভেজা পায়ের তালুর ছাপ পড়েছে। সেই ছাপের দিকে দীর্ঘসময় তাকিয়ে রইলেন পাত্রের চাচা। পানের পিক ফেলতে ফেলতে বললেন,
– ‘নাহ! এই মাইয়া অইব না। এই শঙ্খিনী। শঙ্খিনী মাইয়া হয় অস্থির। ধর্মে মন থাকে না। পরপুরুষের প্রতি আসক্ত হয়, গুরুজনের প্রতি শ্রদ্ধা থাকে না। এই মাইয়া বাদ’।
তিনি পায়ের ছাপ দেখে মেয়ের ভালো মন্দ বলে দিতে পারেন। তার মতে, মাইয়া মাইনসের কপাল লেখা থাকে পায়ের তলে। পদ্মিনী নারী সবচেয়ে ভাল। Continue reading “নৈঃশব্দ্য”

Page 5 of 266« First...34567...102030...Last »