তুমিই সত্য “হে সমাজ”

সেইরাম ‘ধার্মিক’ ভাব নিলেও আমরা বাঙ্গালীরা আসলে ধর্মের চেয়ে সামাজিক নিয়ম অনেক বেশী মেনে চলি, আর এত কঠোর ভাবে সামাজিক প্রথা মেনে চলাটাই হচ্ছে অনগ্রসর সমাজের বেঞ্চমার্ক। বুঝিয়ে বলি, হালাল আয় করাটা আমাদের ইসলাম ধর্মে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয়, কিন্তু হালাল আয় করেনা দেখে বিয়ে ভেঙ্গে গেছে বা পাত্রীপক্ষ বিয়ে দিতে অস্বীকার করেছে সেটা ইহজীবনে কয়বার দেখেছেন বা শুনেছেন? বাংলাদেশের বিয়েতে পাত্রের হালাল আয় থাকাটা কি আদৌ কোন ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত?

বিয়ের কথা চিন্তা করুন, ইসলাম ধর্মে কোথায় আছে যে একটা নির্দিষ্ট বয়স না হলে, Continue reading “তুমিই সত্য “হে সমাজ””

ক্ষুদে সান্ধ্যবার্তা

এই শহরে কোন এক আকাশ ছোঁয়া দালানের ওপাশে টুপ করে ডুব দেয় সূর্য। হাঁটতে হাঁটতে হয়তো চোখে পড়ে কখনো। অলিগলিতে সন্ধ্যা নামার আগেই সন্ধ্যা নামে। বিরামহীন একটানা হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে পথ হারিয়ে ফেলে একে অন্যকে দেয়া ক্ষুদে সান্ধ্যবার্তা গুলো। কেবলই মনে হতে থাকে কাউকে কাছে পাবার আকাঙ্খা ছিলো। বলা হয়নি। পাওয়া হয়নি। ছুটে যাওয়া তারা দেখে চাওয়া হয়নি। আরো গভীরে গেলে গভীর অন্ধকারও হারিয়ে যাবে। তবুও এতোকিছু ভাবতে নেই। ক্ষিধে লাগলে খেয়ে নিতে হয়। ঘুম পেলে ঘুমিয়ে যেতে হয়।

ইচ্ছে হলে কখনো সখনো ছাদের কোনে চুপচাপ বসে থাকতেও বাঁধা নেই। Continue reading “ক্ষুদে সান্ধ্যবার্তা”

যাহা বলিব, মিথ্যা বলিব (নবম পর্ব)

ছাব্বিশ
খুব মনে আছে, সে চলে যাবার ২/৩ দিনের ভিতর কোন এক রাতে আমার শরীর কাপিয়ে উথাল পাথাল টাইপ জ্বর এলো। রাতের বেলা জ্বরের ঘোরে প্রলাপ বকছি আর তার কথা ভাবছি। একটা সময় আমি তার উপস্থিতি অনুভব করতে লাগলাম। কে যেনো আমার কপাল ছুঁয়ে দিলো পরম মমতায়। আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো। আমি ঘুমের কোলে ঢলে পরলাম। তার পরের দুইটা দিন কাটলো আমার পরিবারের সকলের সেবা পেয়ে। জ্বর সেরে যাবার পর আমি সেদিন রাতের ঘটনাকে ব্যখ্যা করলাম এই ভাবে যে, সে থাকাকালীন আমার একবার জ্বর এসেছিলো। উথাল পাথাল টাইপ জ্বর। মাথায় পানি ঢালা থেকে শুরু করে, গা মুছে দেয়া সব সে নিজ হাতেই করেছিলো। Continue reading “যাহা বলিব, মিথ্যা বলিব (নবম পর্ব)”

সম্পর্কের সমীকরণ

সেদিন এক ভাইয়ের সাথে কথা হচ্ছিলো। সিনিয়র হলেও যথেষ্ট বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। বিভিন্ন বিষয়ে তার সাথে প্রায়ই আলাপ হয়। কথাবার্তার এক ফাঁকে ভাই যা বললেন, তার সারমর্ম এই দাঁড়ায় যে,
– “পৃথিবীর প্রতিটি সম্পর্ক ট্রানজেকশনাল। প্রতিটি সম্পর্কের মাঝে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বা প্রচ্ছন্নভাবে গিভ এন্ড টেইকের বিষয় থাকে। এটার অন্যতম উদাহরণ হল বিয়ে, বিশেষ করে অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ। লাভ ম্যারেজেও কখনও কখনও এমনটা দেখা যায় যখন সম্পর্ক বিয়ের দিকে গড়ায়। ছেলে কেমন সেটা সেকেন্ডারি কনসার্ন, ছেলে কি করে সেটাই প্রাইমারি কনসার্ন। ছেলের ফ্যামিলি কেমন, বাড়ি আছে কিনা, আত্মীয়-স্বজনের স্ট্যাটাস, সবমিলিয়ে ওভারঅল একটা প্যাকেজ হিসেবে অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ হয়ে থাকে। এর মানে বিয়েটা আসলে মানুষের আদলে একটা প্যাকেজের সাথে হচ্ছে। প্যাকেজের কোন একটা দিকও যদি প্রত্যাশার সাথে খাপ না খায়, তখন বেরিয়ে আসে ভালোবাসার আসল চেহারা।” Continue reading “সম্পর্কের সমীকরণ”

গুজব

কিছু ঘটনা আমরা ঐতিহাসিকভাবে প্রকৃত ঘটনা হিসেবে বলেই জানি। কিন্তু আদতে সেগুলো গুজব কিংবা আংশিক সত্য। রইল এমন চারটি ঘটনার কথা।

বাংলায় আমরা যেমন বলি, ‘কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ’। প্রবাদবাক্যটি ইংরেজিতে তেমনি বলা হয় ‘নিরো, ফিডলড হোয়াইল রোম বার্নড’। অর্থাৎ রোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী রোম যখন আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যাচ্ছিল, খামখেয়ালি রাজা নিরো (৩৭-৬৮ সাল) তখন প্রাসাদে বসে বেহালা বাজাচ্ছিলেন। যদিও বেহালার বদলে বাংলায় বলা হয়, ‘রোম যখন পুড়ছিল, নিরো তখন বাঁশি বাজাচ্ছিল’। কিন্তু ইতিহাস বলে, নিরো তখন রোমেই ছিলেন না, তিনি তখন শহরের ত্রিশ মাইল দূরে অ্যান্টিয়ামে অবস্থান করছিলেন। অন্যদিকে বেহালা নামের বাদ্যযন্ত্রের প্রচলনই হয় একাদশ শতাব্দীতে, নিরোর মৃত্যুর প্রায় ১ হাজার ১০০ বছর পর। তাই সে যুগে নিরোর বেহালা বাজানোর প্রশ্নই আসে না! Continue reading “গুজব”

অপরাজিতা

মেয়েটা ভাঁজ খুলে দাঁড়ালো। মঞ্চের চারিদিকে অন্ধকার। ঠিক মাঝখানে আলোর নিচে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটা। চেহারা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। আলো আর ছায়া দেখা যাচ্ছে কেবল। আলোটা চোখ ধাঁধানো আলো। ছায়াটা গভীর কালো। মেয়েটি চুলের খোঁপা খুলে ফেললো। দর্শক সারিতে পিনপতন নিরবতা। কোথাও কোথাও গভীর শ্বাস শোনা যাচ্ছে। কোথাও বা ঢোক গিলার শব্দ। মেয়েটা এবার বুকের উপরে ঝুলতে থাকা শাড়ির আঁচল ফেলে দিলো। দর্শক সাড়িতে দ্রুত হচ্ছে শ্বাস। মেয়েটার সুউচ্চ বুক তৈরি করেছে বুকের নিচেই গাঢ় অন্ধকার। মেয়েটা পিছন ফিরে দাঁড়ালো। পিঠে ছড়িয়ে আছে খোলা চুল। ব্লাউজের নিচে কোমরের ভাঁজ। ভারি নিতম্বে আটকে গেছে দর্শকদের চোখ। মেয়েটা আস্তে আস্তে আবার সামনে ফিরলো। এতোদূর থেকেও মেয়েটার মুখে আলো ছায়ার ভাঁজ দেখে মনে হচ্ছে মেয়েটা মুচকি হাসছে। মেয়েটার হাত আস্তে আস্তে ব্লাউজের দিকে চলে যাচ্ছে। একটা বোতাম খুললো। মেয়েটা হাসছে এখনো। দর্শকের সারিতে চাপা চাপা নিঃশ্বাসে শোনা যাচ্ছে,
– ওয়ান মোর! ওয়ান মোর!! ওয়ান মোর!!! Continue reading “অপরাজিতা”

Page 6 of 259« First...45678...203040...Last »